অসময়ে মুষলধারে বৃষ্টিতে অনেক এলাকাতেই আগাম জাতের আলু চাষ ব্যাহত হওয়ায় এবার নভেম্বরে নতুন আলু উঠবে না বগুড়ায়। আর এ সুযোগে প্রতি কিলোগ্রাম (কেজি) আলুতে আরও ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা অতিরিক্ত লাভের জন্য হিমাগারে থাকা আলু বিক্রিতে আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। বাংলাদেশ কোল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বৃহত্তর বগুড়া জেলা কমিটির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, চুক্তি অনুযায়ী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আলুর মালিকদের তাদের পণ্য নিয়ে যেতে হবে, এ সময় সর্বোচ্চ হতে পারে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু তারপর তাদের আলু আর হিমাগারে রাখা হবে না। এ অবস্থায় বগুড়ায় ৪১টি হিমাগারে বীজ আলুসহ মজুত প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার টন আলুর অনেকটাই নষ্ট হতে পারে।আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হিমাগার থেকে আলু বের করার পর সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত আলুর মান ঠিক থাকে। তারপর থেকে পচতে শুরু করে আলু। একই সঙ্গে গাছও জন্মে।’
তিনি অভিযোগ করেন বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর অবরোধসহ অন্যান্য কর্মসূচির কারণে আলুর পরিবহনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাবে। বগুড়ায় খুচরা বাজারে গত শুক্রবার স্টিক ও পাকড়িসহ অন্যান্য জাতের আলু বিক্রি হয় ৪৮ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। আর বীজ আলু কিনতে দেখা গেছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে।আমদানি করা আলু বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ার পর দাম কিছুটা কমেছে বলছেন পাইকারি, খুচরা বিক্রেতা ও আমদানিকারকরা। কিন্তু তারপরেও আলুর দাম সাধারণ ভোক্তাদের নাগালে আসেনি। বগুড়া রাজাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রায় জানান, ভারত থেকে আলু আসার পর দাম কমেছে কেজিতে গড়ে ১০ টাকা করে। পরিমল বলেন, ‘আমরা আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে সাধারণ আলুর দাম প্রতি কেজিতে কমবে আরও অন্তত ১০ টাকা।’
বগুড়ার সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মমতা হক জানান, কোল্ডস্টোরগুলো যে হিসাব দিয়েছে তাতে বগুড়ায় এখনো খাবার আলুর মজুত আছে কমপক্ষে ২২ হাজার টন। আর বীজ আলু আছে প্রায় সাড়ে ৮২ হাজার টন।প্রাথমিক হিসাবে ধরা হয়েছে, বগুড়ায় বছরে আলুর চাহিদা ২ লাখ টন হলেও গত মৌসুমে উৎপাদন হয় ১২ লাখ ৩৪ হাজার টন। এখনো যে পরিমাণ আলু হিমাগারে মজুত তাতে নভেম্বরের পুরোটাই চলবে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতলুবর রহমান এসব তথ্য দিয়ে জানান, বগুড়ায় আগাম জাতের আলু উঠবে ডিসেম্বরে আর আলু লাগানোর শেষ সময় ডিসেম্বর।রাজাবাজার বগুড়ায় সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজি এবং মসলার বাজার। এখানে অনেক বছর ধরে আলু পাইকারি কেনাবেচা করেন মো. নাজিউর রহমান। তিনি গত বুধবার হিমাগার থেকে স্টিক আলু কিনেছেন প্রতি কেজি ৪৮ টাকা দরে। আর পাইকারি বিক্রি করেছেন ৫২ টাকা করে। আলু আমদানির খবর ছড়িয়ে পরার পর প্রতি কেজিতে দর কমেছে ৫ টাকা থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত। এ দর আরও কমবে ২-৩ দিনের মধ্যেই। তবে তা সরকারি নির্ধারিত দর ২৭ টাকার নিচে নামবে না। যেসব হিমাগার থেকে তিনি আলু কিনেছেন তার সবই তিনি দেখেছেন আলুর বস্তার স্তূপ। বিশেষ ধরনের আলুর দাম এখনো কমেনি জানিয়ে ওই একই বাজারের খুচরা বিক্রেতা আবদুল গফুর জানান, স্থানীয়ভাবে শিলবিলাতি হিসাবে পরিচিত আলু এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। গত বছর এ আলু বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে। একটু বড় আকারের হাগরাই আলুর দর এখনো ৮০ টাকা কেজি। এখন হাগরাই আলুর বীজ বিক্রি করছি প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে। অথচ গত বছর একই বীজ বিক্রি করেছি ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা দরে।
এ বাজারের আরেকজন খুচরা আলু বিক্রেতা আব্দুর রশিদ জানান, পাকড়ি আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। তবে ২-৩ দিন আগে একই মান ও আকারের আলু তিনি বিক্রি করেছেন ৬৫ টাকা থেকে ৬৮ টাকা দরে। স্টিক আলুর দাম প্রতি কেজি এখনও ৪৭ টাকা থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরেই কিনছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে এ দরে তাদের আরও কয়েকদিন কেনা লাগতে পারে যদি না সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর না হয়। বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার ডিসি অফিসে হিমাগার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিগগিরই বাজার তদারকির কাজ শুরু করবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তিনি বলেন, হিমাগারগুলো সরকার নির্ধারিত দরে আলু বিক্রি নিশ্চিত করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

