নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের এক শান্ত গ্রামে গাছ, মাটি আর ফসলের ঘ্রাণে বেড়ে উঠেছেন তানজিনা আক্তার ইতি। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতিকে ভালোবাসতেন তিনি। বাগান করা, ফুল গাছ লাগানো, বাড়ির পাশে শাকসবজি ফলানো—সবকিছুর মধ্যেই ছিল তার আনন্দ। সেই ভালোবাসাই আজ তাকে করে তুলেছে একজন সফল নারী কৃষাণী ও উদ্যোক্তা।
‘কৃষি নীড়’ নামের নিজের উদ্যোগের মাধ্যমে ইতি এখন উৎপাদন করছেন নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষিপণ্য।
তাঁর উৎপাদিত পণ্যের তালিকায় আছে—চাল, চালের গুঁড়া, সিদ্ধ চালের খুঁদ, মাসকলাই রেডি ডাল, হলুদ, মরিচ ও ধনিয়ার গুঁড়া, লাল আটা, যবের ছাতু, রেডি টু কুক শাকসবজি, মৌসুমি ফল ও সবজি, কলা, লেবু, মাল্টা ইত্যাদি।
হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার্স করা এই তরুণী জানালেন,
“আমার কৃষির অনুপ্রেরণা আমার বাবা। তিনি একজন কৃষক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর হাতেই দেখেছি শ্রম, ধৈর্য আর ফসলের প্রতি ভালোবাসা কাকে বলে।”
২০২২ সালে মাল্টা ও লেবুর মিশ্র বাগান দিয়ে শুরু হয় ইতির উদ্যোক্তা যাত্রা। তবে পরিবারিকভাবে তাদের কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল আরও আগে থেকেই। ধান, কলা, সরিষা, মরিচ, ধনিয়া, হলুদ—এসবই নিয়মিতভাবে চাষ করা হতো তাদের জমিতে। ২০২৪ সালে তিনি ‘কৃষি নীড়’ নামে অনলাইন পেজ খুলে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।
যদিও সমাজের কিছু মানুষ এখনো নারীকে মাঠে কাজ করতে দেখে অবাক হন, ইতি তাতে হতাশ হন না। হাসিমুখে বলেন,
“অনেকে তাদের সন্তানদের আমাকে দেখিয়ে বলে—‘ইতি মাস্টার্স করে মাঠে কাজ করছে, তোরাও পারবি।’ আমি এটাকেই ইতিবাচক ভাবি।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন,
“আমি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার প্রজেক্ট বাড়াতে চাই। আগামী দিনে ১০টি পরিবারের কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই। আর আমাদের উৎপাদিত নিরাপদ কৃষিপণ্য দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বপ্ন দেখি।”
বাংলাদেশের কৃষির মাটিতে তানজিনা আক্তার ইতির মতো শিক্ষিত, উদ্যমী নারীরা আজ এক নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠছেন। তারা প্রমাণ করছেন—নারী মানেই শুধু ঘর নয়, জমির মাটিতেও তার স্বপ্নের বীজ রোপণ করা সম্ভব।

