কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় এ বছর ব্যাপকভাবে বেড়েছে খিরা চাষ। প্রতি বছরই বাড়ছে এ ফসলের আবাদ। বাড়ছে নতুন কৃষকের আগ্রহ। একসময় যারা লোকসানে পড়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখন খিরা চাষ করে জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে, চেঙ্গাকান্দি, গোলাপের চর, হাসনাবাদ, হাসানপুর, ইলিয়টগঞ্জ, রায়পুর, মোহাম্মদপুর, বরকোটাসহ সব এলাকায় এখন খিরা গাছের সবুজ পাতার সমারোহ।কৃষকরা জানান, এ বছর প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ মণ পর্যন্ত ফলন হতে পারে। একই সঙ্গে বাজারেও ভালো দামের আশা করছেন তারা। আগাম মৌসুমে খিরার চাহিদা বেশি থাকায় লাভ নিয়ে আশাবাদী কৃষকরা।উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর দাউদকান্দিতে ৪০০ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫০ হেক্টর বেশি। পুষ্টিগুণে ভরপুর এ খিরার উৎপাদিত মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে দাউদকান্দির খিরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় নতুন নতুন কৃষকও খিরা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
জানা গেছে, মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বরকোটা গ্রামের কৃষক সোলেমান মিয়া, দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি গ্রামের আলী আকবর, গোলাপের চর গ্রামের রহিম মিয়া, হাসানপুর গ্রামের সিরাজ মিয়া, নন্দনপুর গ্রামের সুরুজ মিঞা, ইলিয়টগঞ্জের আবু ইউসুফ এবং রায়পুর গ্রামের মালু মিয়া- প্রতি বছরই বাণিজ্যিকভাবে খিরা চাষ করেন। তাদের উৎপাদিত খিরা সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদাও বেশি। বাজারে আগাম খিরার দামও তুলনামূলক ভালো মেলে।বরকোটা গ্রামের কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, ‘আমি প্রতি বছরের মতো এবারও সাত কানি জমিতে খিরা চাষ করেছি। গত বছর তুলনায় এবার ফলন আরও ভালো হবে বলে আশা করছি। কয়েক বছর আগে আলু চাষ করে লোকসান হয়েছিল, কিন্তু খিরা আমাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে। প্রতিদিনই গাছের পরিচর্যা করছি। প্রতিটি গাছে ভালো ফুল ও ফল এসেছে। আশা করছি এবারও লাভ হবে।’
চেঙ্গাকান্দির কৃষক আলী আকবর বলেন, ‘তিন বছর ধরে ৩৫ শতক জমি বর্গা নিয়ে খিরা চাষ করছি। এবার ফলন ভালো হবে। গত বছর চারা মারা যাওয়ায় নতুন করে চারা রোপণ করতে হয়েছিল। দেরিতে উৎপাদন হওয়ায় ভালো দাম পাইনি। এবার এক মাস আগে চাষ করেছি, তাই লাভ একটু বেশি হবে বলে আশা করছি।’
গোলাপের চর গ্রামের শরীফ মিয়া বলেন, ‘খিরা চাষ অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচে বেশি লাভ দেয়। তাই দাউদকান্দিতে খিরা চাষ এখন খুব জনপ্রিয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর উপজেলায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার খিরা উৎপাদন হবে।’

