
হজ পালন শেষে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়া হাজিদের জন্য সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানের পক্ষ থেকে পবিত্র কোরআন ও এর অনূদিত সংস্করণ উপহার হিসেবে বিতরণ শুরু করেছে দেশটির ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এবছর হাজিদের ৮০ ভাষায় ১৯ লাখ কোরআন উপহার দিচ্ছে সৌদি সরকার। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যেও এ উপহার বিতরণ করা হচ্ছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডিপার্চার লাউঞ্জে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যাতে হাজিরা নিজ দেশে ফেরার আগে সহজেই কোরআনের কপি সংগ্রহ করতে পারেন।
মদিনাভিত্তিক কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং দ্য হোলি কোরআন থেকে মুদ্রিত মোট ১৯ লাখ কপি পবিত্র কোরআন ও এর অনূদিত সংস্করণ এ কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা হবে। ৮০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত এসব সংস্করণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের নিজ মাতৃভাষায় কোরআনের বাণী অধ্যয়ন ও অনুধাবনের সুযোগ করে দেবে।
ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দেশের সব বিমান, স্থল ও সমুদ্রবন্দরে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী এ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী শেখ আবদুল লতিফ আল-আলশেখ বলেন, এ উপহার বিশ্বব্যাপী পবিত্র কোরআনের বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি নেতৃত্বের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি জানান, বিদায়ী হাজিদের কাছে উপহারটি নির্বিঘ্নে ও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সব মানবসম্পদ ও লজিস্টিক সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, হজ সম্পন্ন করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া প্রথম দফার হাজিদের প্রস্থান কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করেছে জেদ্দা বিমানবন্দরের পাসপোর্ট বিভাগ। সৌদি আরবের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব পাসপোর্টস জানিয়েছে, হজ-পরবর্তী যাত্রীচাপ সামাল দিতে দেশের সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের নির্ধারিত ভ্রমণসূচি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর মোট ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩০১ জন মুসল্লি হজ পালন করেছেন, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জন বিদেশ থেকে সৌদি আরবে এসেছেন। তাদের মধ্যে ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭২৯ জন আকাশপথে আগমন করেন। এছাড়া সৌদি আরবের নাগরিক ও বাসিন্দা মিলিয়ে হজ পালন করেছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন।

