ফারজানা রইস এ্যানি
স্বত্বাধিকারী
Rangdhanu fashion
১. নিজের সম্পর্কে একটু বলুন। আপনার উদ্যোগের নাম কী এবং কী ধরনের পণ্য/সেবা নিয়ে কাজ করছেন?
উত্তরঃ আমি ফারজানা রইস এ্যানি। তিতুমির কলেজ থেকে বিএ পাশ করার পর জব শুরু করেছি এবং এর পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছি। একটি সন্তানের জননী আমি। বর্তমানে যে পেজ টি পরিচালনা করছি তার নাম “Rangdahnu fashion” এবং এই পেজের মাধ্যমে থ্রি পিস, টু পিস, স্টিচ আনস্টিচ, বিছানার চাদর, জামদানি শাড়ি নিয়ে কাজ করছি।
২. উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেয়েছেন? ব্যাবসা শুরু করার পিছনের গল্প টা কি?
উত্তরঃ শুধু জব নয় এর পাশাপাশি অন্য কিছু একটা করা দরকার এই ভাবনা থেকেই উদ্যোক্তা জীবনের যাত্রা শুরু এবং সাল ছিল ২০১৯। আসল কথা হল আমার মাকে দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি তিনি যেমন জব করতেন তেমন করে আমাদের সামলাতেন, সংসার সামলাতেন আর আমার ছেলে কে সামলাতেন, আবার রাজনীতি ও করতেন। সেখান থেকেই আমিও মনে শক্তি আনলাম আমার মা যদি পারে এত কিছু করতে তাহলে আমি কেন পারব না জবের পাশাপাশি বিজনেসটা করতে!!
সেখান থেকেই আমার অনুপ্রেরণা শুরু।
গল্প টা শুরু হয়েছিল করোনার সময় যখন মনে হয়েছিল যে জবের পাশাপাশি বাড়তি একটা ইনকামের খুব প্রয়োজন। তখন অল্প কিছু সংখ্যক আইটেম নিয়ে এক বান্ধবীর সাথে যুক্ত হয়ে দুজন মিলে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিজনেসটা শুরু করি।
৩. প্রথম বিনিয়োগ কত ছিল? কি পরিমান মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন?
উত্তরঃ প্রথম বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৫ হাজার টাকা। সেই থেকে পথ চলা শুরু।
৪. আপনার পণ্যের বিশেষত্ব কী? নতুন কোন পণ্য বা সেবা নিয়ে কাজ করছেন কি?
উত্তরঃ আমার পণ্যের বিশেষত্ব হচ্ছে মানসম্মত পণ্য স্বল্প মূল্যে দিয়ে থাকি এবং সীমিত লাভ করি। নতুন পণ্য হিসেবে হাফ সিল্ক জামদানি শাড়ি নিয়ে কাজ করার চিন্তা করছি
৫. শুরুতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন?
উত্তরঃ শুরুতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম সেটা হচ্ছে অনলাইন বিজনেস প্রতিযোগিতা। দামে আর মানে ভালো রাখার জন্য অনেক জায়গা ঘুরে ড্রেসগুলো কালেকশন করতাম এবং অনেক সময় ডেলিভারি ম্যান না পেয়ে নিজেই ডেলিভারি দিতাম। এ সময় আমাকে ডেলিভারি দিতে আমার ভাই ও অনেক সহযোগিতা করেছেন।
৬.কার সমর্থন বেশি পেয়েছেন?
উত্তরঃ আমার মা, ভাই এবং কাছের বন্ধুর সমর্থন পেয়েছি।
৭. কোন সংগঠনের সহায়তা পেয়েছেন? তাহলে তাদের সম্পর্কে একটু বলুন, যেনো অন্য উদ্যোক্তারা ও উপকৃত হয়।
উত্তরঃ আমি খুব বেশি সংগঠনের সাথে যুক্ত নই তবে আমার এক খালাতো বোনের কথা অনুযায়ী আমি “খ তে খাঁটি পরিবার” গ্রুপের সাথে যুক্ত হই। এই গ্রুপ থেকে যেমন সম্মান পেয়েছি সেরকম পেয়েছি অনেক সেল আলহামদুলিল্লাহ। গত বছর আমি বেস্ট সেলার ও হয়েছি। কারণ এই গ্রুপের এডমিন অনেক ভালো একজন মানুষ এবং সঠিক বিচারের অধিকারিণী। তার কাছে সবাই সমান এবং তাকে সহযোগিতা করতে যে সকল মডারেটর আপুরা আছেন তারা সকলেই খুবই সহযোগী পারায়ণ মানুষ। আলহামদুলিল্লাহ এই পরিবার-এর কারণে আমি আমার বিজনেসটাকে এত দূর এগিয়ে আনতে পেরেছি।
৮. কঠিন সময়ে নিজেকে মোটিভেটেড রাখেন কীভাবে?
উত্তরঃ কঠিন সময়ে নিজের আত্মবিশ্বাস আর ধৈর্য দিয়ে নিজেকে মোটিভেট করে রাখি।
৯. উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনটি? একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি কী?
উত্তরঃ উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে আমি একজন সৎ এবং প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা। আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে আমার সততা আর ধৈর্য।
১০. এমন কোনো ব্যর্থতা আছে যা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ এমন ব্যর্থতা আছে যেটা থেকে আমি অনেক বড় শিক্ষা নিয়েছি সেটা হচ্ছে মানুষকে বেশি বিশ্বাস করে।
১১. কাজ ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখেন?
উত্তরঃ কাজের সময়টুকুতে সঠিক সময় দেই এবং পরিবারকে যতটুকু সময় দেওয়া প্রয়োজন, সেই সময়টুকু সমানভাবে দেয়ার চেষ্টা করি।
১২. বর্তমান প্রেক্ষাপটে চাকরি না করে ব্যবসা, কোনটা বেশি বাস্তব? আপনার কি মনে হয়?
উত্তরঃ আমি যেহেতু জব এবং বিজনেস দুটো ই করছি সেহেতু আমার কাছে মনে হয় ব্যবসা হচ্ছে নিজের আর জব হচ্ছে অন্যের তো সেই প্রেক্ষাপট থেকে মনে হয় ব্যবসা ই বেশি বাস্তব।
১৩. ছোট বেলায় কি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন? কোন পেশায় যাওয়ার হচ্ছে ছিলো?
উত্তরঃ ছোটোবেলায় আমার ডাক্তার হওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল কিন্তু সেটা হতে পারিনি কারণ আমি সাইন্স নিয়ে পড়িনি, পড়েছি মানবিক নিয়ে কারণ বিজ্ঞান সাবজেক্ট গুলো আমার কাছে অনেক কঠিন মনে হতো।
১৪. আপনার ব্যাবসার সবচেয়ে মজার অভিজ্ঞতা কি? এমন কোন গ্রাহকের গল্প আছে যা আজও মনে পড়ে?
উত্তরঃ হ্যাঁ একটা মজার এবং আনন্দের অভিজ্ঞতা আছে সেটা হচ্ছে করোনার মধ্যে এক মডেলিং কাস্টমার ছিল যার পাঁচটা ড্রেসের অর্ডার ছিল। এবং একদিনের মধ্যেই সেটা দিতে হবে। তখন লকডাউন এর সময় ছিল এবং সেই সময় মার্কেট এ গিয়ে ড্রেসগুলো নিয়ে অর্ধেক পথ হেঁটে আর অর্ধেক পথ রিক্সা করে মিরপুর কালশীতে গিয়েছিলাম ডেলিভারি দিতে। সেই আপু তো দেখে অনেক অবাক হলেন যে এমন লকডাউনের মধ্যে আমি নিজেই গিয়েছিলাম ডেলিভারি দিতে। এরপর তিনি ঘরে ডেকে নিয়ে বসালেন, আপ্যায়ন করলেন এবং খুব প্রশংসা করেছিলেন আলহামদুলিল্লাহ। আর এই গল্ল টাই আমার এখনো মনে পড়ে।
১৫. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? আগামী ৫ বছরে আপনার ব্যবসাকে কোথায় দেখতে চান?
উত্তরঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হল আমার নিজের একটা শোরুম হবে এবং আগামী পাঁচ বছরে আমি নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই।
১৬. যারা এখন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য আপনার বার্তা / পরামর্শ কী?
উত্তরঃ অবশ্যই নিজের উপর আস্থা রাখতে হবে, ধৈর্য রাখতে হবে আর সুন্দর ব্যবহার এর অধিকারী হতে হবে। আর বিশ্বাস রাখতে হবে সৃষ্টিকর্তার উপর।

