চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড। সোমবার সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাঁদের নাম ঘোষণা করে।
রবার্ট হল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। অন্যদিকে মাইকেল উডফোর্ড নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তি নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
ব্যষ্টিক অর্থনীতি (মাইক্রোইকোনমিকস) ব্যক্তি, পরিবার কিংবা একক প্রতিষ্ঠানের মতো ক্ষুদ্র পরিসরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে সামষ্টিক অর্থনীতি (ম্যাক্রোইকোনমিকস) একটি দেশ বা বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড এমন কিছু অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করেছেন, যেগুলো অর্থনীতির অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহায়তা করে।
এসব মডেলের সাহায্যে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার কর ও সরকারি ব্যয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। একইভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ও অর্থের জোগান নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে পারে। সঠিক সময়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের উত্থান-পতনের প্রভাব কমানো সম্ভব।
অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, বিজয়ীদের গবেষণা এমন একটি স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে, যার ওপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের ব্যবহৃত মডেলগুলো প্রতিষ্ঠিত।
হাসলার আরও বলেন, ‘তাঁদের গবেষণার ফলে জ্বালানিসংকট কিংবা ভোক্তাব্যয়ের পরিবর্তনের মতো অর্থনীতির ওপর আসা বিভিন্ন ধরনের আকস্মিক ধাক্কা মোকাবিলায় আমরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুত।’
অর্থনীতিতে এ পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক নাম ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ব্যাংক অব সুইডেন পুরস্কার’।
গত বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়ঁ ও পিটার হাউইট। নতুন প্রযুক্তি ও উৎপাদনপদ্ধতি কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ায়, তা নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁদের পুরস্কৃত করা হয়। তাঁদের গবেষণায় ‘সৃজনশীল ধ্বংস’ ধারণাটিও গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধারণা অনুযায়ী, নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতির কারণে পুরোনো পণ্য, কাজ কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়তে পারে; একই সঙ্গে নতুন সুযোগও তৈরি হয়।
এ পর্যন্ত অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের। এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজন নারী এ পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ২০২৩ সালে পুরস্কার পান ক্লডিয়া গোল্ডিন। যুক্তরাষ্ট্রে সময়ের সঙ্গে নারী-পুরুষের ব্যবধান কীভাবে বেতন ও চাকরির সুযোগকে প্রভাবিত করেছে, তা নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়।
সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতিতে এ পুরস্কারের প্রচলন করে। ১৯৬৮ সালে আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে এটি চালু করা হয়। উনিশ শতকের সুইডিশ ব্যবসায়ী ও রসায়নবিদ আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কার করেছিলেন এবং পাঁচটি নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেছিলেন।
নোবেল পুরস্কারের বিশুদ্ধতা নিয়ে যাঁরা কঠোর অবস্থান নেন, তাঁরা বলেন, প্রযুক্তিগতভাবে অর্থনীতির এ পুরস্কার মূল নোবেল পুরস্কারের অংশ নয়। তবে আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর দিন ১০ ডিসেম্বরের বার্ষিকীতে অন্য নোবেল পুরস্কারগুলোর সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে এ পুরস্কারও দেওয়া হয়।
এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। একজন ব্যক্তি, ছোট কোনো দল কিংবা প্রতিষ্ঠান—যে-ই পুরস্কার পাক না কেন, অর্থের পরিমাণ একই থাকবে।
গত সপ্তাহে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আজ অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শেষ হলো।


