দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণ এবং তাঁদের রুটি-রুজির স্বার্থ রক্ষায় সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, কোনো শিল্পকারখানা যেন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না থাকে এবং কোনো শ্রমিক যেন বেকার হয়ে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পোশাকশিল্প খাতের চলমান সংকট নিরসনে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সকালে মালিকপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আজ বিকেলে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক হবে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি ও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই এ বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সরকার থেকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম দেওয়া হলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নাম দিতে কয়েক দিন সময় নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, গত ৩১ অক্টোবর রাতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর রোববার (১ নভেম্বর) সকালে শ্রম মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। শিগগিরই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মালিক নেতাদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। গত কয়েক দিনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। আজই বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং জীবনমানের উন্নয়ন হয়। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এখানে অসন্তোষের কোনো কারণ নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন ধরে একটি পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদী সমর্থক কিছু পক্ষ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজ, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গতকালই কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ ও কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী অনেক নেতাকেও দেখা গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পমালিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং তাঁরা সরকারকে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে জড়িত থাকতে পারে না। যারা অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তারা পতিত শক্তির চিহ্নিত দোসর। তারা প্রকৃত শ্রমিক নয়। প্রকৃত শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা কখনো নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক, তা চাইবেন না। গত কয়েক দিনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় প্রকৃত কোনো শ্রমিক জড়িত নন বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে। ‘সুরক্ষা অ্যাপস’ ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। নির্বাচন ও পূজার সময়ও অ্যাপটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো স্থান থেকে পাওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে জানানো সম্ভব। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পলাতক খুনি ও গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাসহ তাঁর যেসব দোসর সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং যাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সবাইকে ফেরত পেতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিসেম্বর কেন, আজই যদি তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আইনের আওতায় আনা হবে। আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিসেম্বর নিয়ে একটি আলোচনার আবহ তৈরি করে পলাতক নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে, যা সফল হবে না।
এসইও কীওয়ার্ড: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পোশাকশিল্পের সংকট, গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ, গার্মেন্টস কারখানার অস্থিরতা


