বিজ্ঞাপন Walton Refrigerator Freezer Offer
পত্রিকার পাতা
ঢাকাবুধবার , ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সব খবর

রাজশাহীর পদ্মার ৬ মৌজায় বালু-মাটি উত্তোলন, ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক নৌবন্দর।

রাজশাহী রিপোর্টার
নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজশাহীর পদ্মার ৬ মৌজায় বালু-মাটি উত্তোলন, ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক নৌবন্দর

হাইকোর্টের আদেশে কার্যক্রম চালানোর দাবি সাবেক ইজারাদারের; আপিল করতে বিআইডব্লিউটিএর বিলম্বের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও উর্বর পলিমাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ভেকু, এক্সকেভেটর ও ড্রেজার ব্যবহার করে নদীতীরের জমি কেটে এবং নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তাদের দাবি, এতে কৃষিজমি ও নদীতীরের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিতে পড়েছে সুলতানগঞ্জ আন্তর্জাতিক নৌবন্দর। চলতি বছর বালুমহালটি ইজারা না দেওয়া এবং পরে স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও সাবেক ইজারাদারের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে।
গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জে পদ্মা-মহানন্দা নদীর মোহনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আন্তর্জাতিক নৌবন্দর অবস্থিত। কয়েক বছর আগে এ বন্দরের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ময়া নৌবন্দরের নৌযোগাযোগ স্থাপিত হয়। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সুলতানগঞ্জ-ময়া নৌপথে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়।
বন্দরের উজান ও ভাটির প্রায় ২০ কিলোমিটার নদী এলাকা এর সীমানা হিসেবে গেজেটভুক্ত। এই সীমানা সংরক্ষণের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএর।
বন্দরসংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বিআইডব্লিউটিএ নৌপরিবহণ ও ভূমি মন্ত্রণালয়সহ রাজশাহী জেলা প্রশাসনকে বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর গোদাগাড়ীর পদ্মা নদীর ছয় মৌজার বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধ করে জেলা প্রশাসন। পরে জেলা মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে বালুমহালটি স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুমহাল বন্ধ ঘোষণার পরও সাবেক ইজারাদার মাম এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল মান্নাফ বালু ও মাটি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভেকু দিয়ে উর্বর পলিমাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সুলতানগঞ্জ থেকে ভাটির ফুলতলা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গোদাগাড়ীর ফুলতলা থেকে উজানে রেলবাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নদীতটে এবারের বন্যায় উর্বর পলিমাটি জমেছে। নদীপাড়ের বাসিন্দারা এসব জমিতে ফসল চাষের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে পলি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ফুলতলাসহ চার-পাঁচটি পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ ঘনফুট বালু এবং শতাধিক ট্রাক মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইজারা না দেওয়া সত্ত্বেও কীভাবে সাবেক ইজারাদার দিনরাত বালু ও মাটি উত্তোলন করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
আদালতের আদেশে কার্যক্রম চালানোর দাবি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্ধ ঘোষিত ছয় মৌজার বালুমহালের সাবেক ইজারাদার মাম এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল মান্নাফ নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে গত জুলাই মাসে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। গত ৬ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাঁকে পরবর্তী তিন মাসের জন্য বালুমহালের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেন। ওই আদেশের সময়সীমা আগামী ৬ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
পরবর্তী সময়ে সাবেক ইজারাদার আগের আদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার পর রাজশাহী জেলা মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম গত ৭ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহণ ও ভূমি মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটরসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জরুরি চিঠি পাঠান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইজারা চুক্তি অনুযায়ী সাবেক ইজারাদার ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল বা ১৪৩৩ বাংলা সনের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত বালুমহালটি ভোগদখল করেছেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বালুমহালের ওপর তাঁর আর কোনো অধিকার বহাল থাকার কথা নয়। এ অবস্থায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দ্রুত আপিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়।
আপিল করতে বিলম্বের অভিযোগ
জেলা প্রশাসনের চিঠি পাওয়ার পর বিআইডব্লিউটিএ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আপিল দাখিলে বিলম্বের সুযোগে সাবেক ইজারাদার একতরফা শুনানির মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দ্বিতীয় আদেশ পান।
পদ্মার ছয় মৌজা বালুমহাল এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, গত বছরও ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সাবেক ইজারাদার আরও তিন মাস বালু ও মাটি উত্তোলন করেছেন। এবারও একইভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, হাইকোর্টের প্রথম আদেশ পাওয়ার পরই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটরসহ বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ আপিল দাখিলে কেন বিলম্ব করছে, তা জেলা প্রশাসনের জানা নেই।
তিনি আরও বলেন, জেলা মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে বালুমহালটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এর ওপর জেলা প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এর কাস্টডিয়ান এখন বিআইডব্লিউটিএ।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দাখিলে বিলম্বের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর সদস্য ও যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা ও অপারেশন) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তা দাখিল করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইজারা চুক্তির তথ্য গোপন করে আদালতের আদেশ নিয়ে বালুমহালের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইজারাদার মাম এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল মান্নাফ। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ীই তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। হাইকোর্ট তাঁকে বালু উত্তোলন ও পরিবহণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌবন্দরকে সচল রাখতে নদীর নৌপথ ও সীমানা রক্ষা জরুরি। কিন্তু বন্দরসংলগ্ন নদীতে বালু উত্তোলন এবং নদীতীরের উর্বর পলিমাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি পদক্ষেপে বিলম্ব নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।