পত্রিকার পাতা
ঢাকাসোমবার , ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

‘ঘরের স্বাদ’— কাপাসিয়ার শারমিনের হাতে তৈরি সাফল্যের গল্প

Md Abu Bakar Siddique
নভেম্বর ৩, ২০২৫ ১২:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
কাপাসিয়ার শারমিন সুলতানা একসময় ছিলেন একজন চাকরিজীবী। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বেসরকারি একটি এনজিওতে কাজ করেছেন। কিন্তু তাঁর মনে সব সময়ই লালন করতেন এক স্বপ্ন—নিজের কিছু করার, নিজের নামে কিছু গড়ে তোলার। আজ সেই স্বপ্নই বাস্তব হয়েছে তাঁর হাতে তৈরি খাবারের উদ্যোগ ‘ঘরের স্বাদ’-এর মাধ্যমে।

শারমিন এখন শুধু উদ্যোক্তা নন, কাপাসিয়া উপজেলা নারী উদ্যোক্তা গ্রুপের প্রশাসকও। নিজ হাতে তৈরি ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা সেমাই আর গরুর মাংসের আচার দিয়ে এখন তিনি সবার পরিচিত মুখ।


একটি ঘটনার সূত্রেই উদ্যোগের শুরু

গল্পটা শুরু হয় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মধ্য দিয়ে। একদিন বাজার থেকে কেনা লাচ্ছা সেমাই খাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে তাঁর বড় মেয়ে। চিকিৎসক জানান, খাবারে ফুড পয়জনিং হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই শারমিন সিদ্ধান্ত নেন—ঘরে বসে নিজ হাতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করবেন।

প্রথমদিকে ইউটিউব দেখে অনেক চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। পরে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ এলে তিনি লাচ্ছা তৈরির কোর্স করেন। একসময় পরিবারের সবাই তাঁর তৈরি সেমাইয়ের স্বাদে মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করতে থাকে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন—এই পণ্য অন্যের কাছেও জনপ্রিয় হতে পারে।


চাকরিজীবী মা থেকে উদ্যোক্তা

দুই কন্যা সন্তানের মা শারমিন বলেন,

“আমি চাই আমার সন্তানরা সব সময় ঘরের তৈরি, বিশুদ্ধ খাবার খাক। সেখান থেকেই আমার কাজের শুরু।”

বর্তমানে প্রতি মাসে তিনি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কেজি ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা সেমাই বিক্রি করেন। সবকিছুই তৈরি হয় ঘরে, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে। তাঁর ব্র্যান্ড ‘ঘরের স্বাদ’ এখন কাপাসিয়া ছাড়াও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিত নাম।


নারীদের এগিয়ে নেওয়ার প্ল্যাটফর্ম

নিজের সাফল্যের পাশাপাশি শারমিন অন্য নারী উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই লক্ষ্যেই তিনি গড়ে তুলেছেন ‘কাপাসিয়া উপজেলা নারী উদ্যোক্তা গ্রুপ’

মাত্র পাঁচজন সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া এই গ্রুপে এখন ৩০ হাজারের বেশি নারী কাজ করছেন। তাঁরা অনলাইনে নিজেদের পণ্য বিক্রির পাশাপাশি প্রতি মাসে অফলাইনে প্রদর্শনী ও মেলার আয়োজন করেন। এসব মেলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক উদ্যোক্তা গড়ে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন।

এ বছর প্রথমবারের মতো এই গ্রুপের নারী উদ্যোক্তারা উপজেলা ছাড়িয়ে জেলা পর্যায়ের মেলাতেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।


‘আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই’

শারমিন বলেন,

“আমি একা নই, আমরা সবাই মিলে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের কাপাসিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে যেন প্রতিটি নারী বলতে পারে— আমি উদ্যোক্তা, আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি।”

তিনি আরও কৃতজ্ঞতা জানান হাসিনা আনসার আপুকে, যিনি নারী উদ্যোক্তাদের এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।


শেষ কথা

চাকরিজীবী মা থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার এই গল্প শুধু শারমিনের নয়—এটি কাপাসিয়ার নারীদের আত্মনির্ভরতার গল্প। “ঘরের স্বাদ” আজ এক নাম, এক প্রেরণা—যেখানে মিশে আছে পরিশ্রম, ভালোবাসা আর ঘরের উষ্ণতা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।