সরকারি সুবিধাভোগী উপকারভোগীদের হিসাবভিত্তিক বাছাই করা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকৃত মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে করে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষেরা কাঙ্ক্ষিত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় প্রকৃত উপকারভোগীর পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে ভাতার কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এতে করে দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
প্রান্তিকরা হচ্ছেন বঞ্চিত
অভিযোগ রয়েছে, ভাতার কার্ড করতে গেলে টাকা দাবি করা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগীর নাম তালিকায় না উঠে স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফলে যাঁদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, তাঁরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও তাঁরা সমাধান পাচ্ছেন না। অনেকে আবার অভিযোগ করতেও ভয় পান। কারণ, অভিযোগ করলে পরবর্তী সময়ে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সুশাসনের অভাব
সংশ্লিষ্টদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণেই এ ধরনের অনিয়ম বাড়ছে। তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে ডিজিটাল যাচাইব্যবস্থা আরও কার্যকর করা জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর পদ্ধতি চালু করতে হবে।
তাঁদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। তাই এই খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

