১. নিজের সম্পর্কে একটু বলুন। আপনার উদ্যোগের নাম কী এবং কী ধরনের পণ্য/সেবা নিয়ে কাজ করছেন?
উত্তরঃ আমি নাজনীন সুলতানা।সিভিল ইন্জিনিয়ার, পেশায় একজন হাইস্কুল শিক্ষক ( ৯মগ্ৰেড) পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছি। দুই সন্তানের জননী আমি। বর্তমানে যে পেজ টি পরিচালনা করছি তার নাম “সুবর্নলতা”
এবং এই পেজের মাধ্যমে ঐতিহ্য বাহি মাদুরাই কটন,মনিপুরী, জামদানি শাড়ি, টাঙ্গাইল তাঁত কটন শাড়ি, থ্রি পিস, টু পিস,
আনস্টিচ, বেডশিট পাঞ্জাবি, ওরনা, হিজাব, কাস্টমাইজ কুর্তি, রেডিমেড ব্লাউস,প্যান্ট ইত্যাদি নিয়ে কাজ করছি।
২. উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেয়েছেন? ব্যবসা শুরু করার পিছনের গল্প টা কি?
উত্তরঃ শুধু জব নয় এর পাশাপাশি অনলাইনে কিছু একটা করা দরকার এই ভাবনা থেকেই উদ্যোক্তা জীবনের যাত্রা শুরু এবং সাল ছিল ২০২০। কোভিড চলাকালীন সময় স্কুল বন্ধ, অনেকের দেখাদেখি শখের বশে ই কাজ শুরু আমার, কিন্তু শুরুতেই ফ্রেন্ড সার্কেল এবং সহকর্মীদের সাপোর্ট বা রেসপন্স আমাকে
বিজনেসটা করতে অনেক টা অনুপ্রাণিত করেছিল বলেই
সেখান থেকেই আমার অনুপ্রেরণা শুরু।
গল্প টা শুরু হয়েছিল করোনার সময় যখন আমার বন্ধুরা বলেছিল যে আমার যেহেতু লেখালেখি র হাত ছিল ছোটবেলা থেকেই এবং অনলাইনে সুন্দর কনটেন্ট একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্ট, আমি এখানে সফল হতে পারবো।
৩. প্রথম বিনিয়োগ কত ছিল? কি পরিমান মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন?
উত্তরঃ প্রথম বিনিয়োগ ছিল মাত্র ২০ হাজার টাকা। সেই থেকে পথ চলা শুরু।
৪. আপনার পণ্যের বিশেষত্ব কী? নতুন কোন পণ্য বা সেবা নিয়ে কাজ করছেন কি?
উত্তরঃ আমার পণ্যের বিশেষত্ব হচ্ছে সব সময় কাস্টমার ডিমান্ড এবং মৌসুম ভেদে নতুন নতুন মানসম্মত পণ্য কালেক্ট রাখা যা স্বল্প মূল্যে দিয়ে থাকি এবং সীমিত লাভ করি।
৫. শুরুতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন?
উত্তরঃ শুরুতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম সেটা হচ্ছে পণ্য ডেলিভারি দেয়া র বিষয় টা অজানা ছিল,প্রথম ডেলিভারি টা আমার হাসব্যান্ড দিয়েছিলেন আমার বন্ধু কে, তারপর কুরিয়ার রেজিস্ট্রেশন এর ব্যাপার টা বুঝে ,মার্চেন্ট রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল। আবার প্রথম ইনভেস্টমেন্ট স্টক শেষ হতে অনেক সময় লেগেছিল আমার, শুরু তে অল্প ইনভেস্টমেন্ট করা উচিত ছিল এটা তখন বুঝি নাই।
৬.কার সমর্থন বেশি পেয়েছেন?
উত্তরঃ ফ্রেন্ড সার্কেল এবং সহকর্মীদের এবং আমার স্টুডেন্ট সাপোর্ট টা বেশি পেয়েছি সবসময়।
৭. কোন সংগঠনের সহায়তা পেয়েছেন? তাহলে তাদের সম্পর্কে একটু বলুন, যেনো অন্য উদ্যোক্তারা ও উপকৃত হয়।
উত্তরঃ আমি খুব বেশি সংগঠনের সাথে যুক্ত ন ই, তবে প্রথমত EKB নামে একটা অনলাইন গ্ৰুপে আমি যুক্ত ছিলাম
কয়েক বছরধরে ,সেখানে থেকে ই অনলাইন বিসনেস এর বিভিন্ন স্কীল, নলেজ শিখেছি, এক্টিভ মেম্বার,টপ কন্ট্রিবিউটর এবং লাখপতি খেতাব পেয়েছিলাম গ্ৰুপ থেকে,ঐ টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি আমি সবসময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
৮. কঠিন সময়ে নিজেকে মোটিভেটেড রাখেন কীভাবে?
উত্তরঃ কঠিন সময়ে নিজের আত্মবিশ্বাস আর ধৈর্য্য দিয়ে নিজেকে মোটিভেট করে রাখি।
৯. উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনটি? একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি কী?
উত্তরঃ উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে আমি একজন সৎ এবং প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা। আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে আমি সবসময় পজিটিভ মাইন্ডেড,
ধৈর্য্য ও পরিশ্রমী মানুষ।
১০. এমন কোনো ব্যর্থতা আছে যা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ এমন ব্যর্থতা আছে যেটা থেকে আমি অনেক বড় শিক্ষা নিয়েছি সেটা হচ্ছে মানুষকে বেশি বিশ্বাস করে, কিছু কিছু মানুষের অনেক উন্নয়ন,উপকার করেছি, করছি, কিন্তু দিন শেষে তারা আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নিয়েছে।
১১. কাজ ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখেন?
উত্তরঃ কাজের সময়টুকুতে সঠিক সময় দেই এবং পরিবারকে যতটুকু সময় দেওয়া প্রয়োজন সেই সময়টুকু সমানভাবে দেয়ার চেষ্টা করি। বাচ্চাদের পরীক্ষা র সময় মাঝে মাঝে অনলাইন কাজ অফ রাখি, এভাবে ই মেইন টেইন করে চলতে হয়।
১২. বর্তমান প্রেক্ষাপটে চাকরি না করে ব্যবসা, কোনটা বেশি বাস্তব? আপনার কি মনে হয়?
উত্তরঃ আমি যেহেতু শিক্ষকতাএবং বিজনেস দুটো ই করছি সেহেতু আমার কাছে মনে হয় ব্যবসা হচ্ছে নিজের স্বাধীনতা ,আর জব হচ্ছে অন্যের অধিনস্ত থাকতে হয়।সেই প্রেক্ষাপট থেকে দুটো ভিন্ন ভিন্ন সন্তুষ্টি র জায়গা।
১৩. ছোট বেলায় কি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন? কোন পেশায় যাওয়ার হচ্ছে ছিলো?
উত্তরঃ ছোটবেলায় পরিবারের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়া, কিন্তু আমি কাটা ছেঁড়া ভয় পাই প্রচন্ড
সেটা হয়ে ওঠে নি।গান, কবিতা লেখা, আবৃত্তি, উপস্থাপনা এগুলো ভালো লাগার জায়গা আমার, কিন্তু ভাগ্যে ছিল শিক্ষকতা। একসাথে সরকারি প্রাইমারি শিক্ষক এবং হাইস্কুল শিক্ষক দুটো তেই জব হয়েছিল। হাইস্কুল শিক্ষকতা করছি ১৯ বছর রানিং।
১৪. আপনার ব্যবসার সবচেয়ে মজার অভিজ্ঞতা কি? এমন কোন গ্রাহকের গল্প আছে যা আজও মনে পড়ে?
উত্তরঃ হ্যাঁ মজার এবং স্মরনীয় ঘটনা তো বটেই। যেদিন প্রথম পেজ খুলে শাড়ি র ছবি আপলোড দেই,ঐ পোস্ট থেকে ই আমার ব্যাচমেট বন্ধু তার স্ত্রী র জন্য শাড়ি অর্ডার করে, যেটা কে আমি ফান মনে করছিলাম,বিলিভ করি নাই।বাট সে আমাকে ইন্সপায়ার্ড করেছিল আমার সাথে থেকে সাপোর্ট করে,সে পরবর্তীতে রিপিট কাস্টমার ছিল আমার আর ডেলিভারি সম্পর্কে আইডিয়া ছিল না বলে আমার হাসব্যান্ড কে অতিথি আপ্যায়নের সাথে সাথে, আমার বন্ধু শাড়ি টা ডেলিভারি ও নিয়েছিল।এ ছাড়াও আমার সিগনেচার শাড়ি পণ্য গুলো কয়েকটি দেশে পৌঁছে দেয়া র , প্রতি টা গল্প, ঝুঁকি গ্ৰহন এবং ফাইনালি সফল হ ওয়া এগুলো সবচেয়ে স্মরনীয় ঘটনা হিসেবে রয়ে গেছে।
১৫. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? আগামী ৫ বছরে আপনার ব্যবসাকে কোথায় দেখতে চান?
উত্তরঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হল আমার নিজের একটা শোরুম হবে, আমি যখন জব থেকে অবসরে যাবো তখন প্রচুর সময় দিতে পারবো বিজনেসেএবং আগামী পাঁচ বছরে আমি নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই।
১৬. যারা এখন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য আপনার বার্তা / পরামর্শ কী?
উত্তরঃ অবশ্যই নিজের উপর আস্থা ও মনোবল রাখতে হবে, কিছু আইডিয়া বা।জ্ঞান নিয়ে তারপর কাজে নামা উচিত, তাহলে ভুল ক্রুটি কম হবে।

