আমি মিমি বিনতে জোছনা। আমার উদ্যোগের নাম জোছনাময়ী।
আমি কাজ করছি ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে হ্যান্ড মেইড জুয়েলারি ও অর্গানিক মেহেদী নিয়ে।এছাড়া আমার পেইজে আরো রয়েছে নানান ধরনের accessories।
১.
গহনা তৈরি করা আমার অনেক পছন্দের একটি কাজ, বলা চলে আমার প্যাশন।কর্পোরেট অফিসে বাঁধা ধরা কাজ আমার বরাবরই তেমন পছন্দের ছিল না। তাই নিজের শখ ও পছন্দের কাজকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করি ২০২১ সালের শুরুতে। কারণ এমনটা বলা হয় যে প্যাশন কে প্রফেশন হিসাবে গ্রহণ করলে সাফল্যের দেখা পাওয়া টাও বেশ কিছুটা সহজ হয়ে যায়।
২.
আমার কাজ নিয়ে বরাবরই বাঁধা ছিলো।প্রথম দিকে পরিবারও তেমন সাপোর্ট দেয় নি। কারণ সবার ই ধারণা এই কাজের কোনো ভবিষ্যৎ নেই,এই কাজ করে সংসার চলবে না,এই কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
৩.
আমার উদ্যোগের পণ্য বছর জুড়ে ব্যবসায়িক ভাবে ধরে রাখার জন্য আমার উদ্যোগের হ্যান্ডমেড পণ্য আমি চেষ্টা করি গ্রাহকের কাছে এর গুণাগুণ তুলে ধরতে এবং গ্রাহকে সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে।এর মাধ্যমেই আমি নতুন নতুন গ্রাহক পাই আর এভাবেই আমার উদ্যোগ সারা বছর জুড়ে অব্যাহত থাকে।
৪.
উদ্যোগের শুরুতে সমস্যা ছিল সবদিক থেকেই।তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা আমার কাছে মনে হয়েছিল মানসিক ভাবে সব সময় একই ভাবে দৃঢ় থাকতে পারা টা। শুরুতে আমার মূলধন ছিল খুব কম। আর আমি যখন এই উদ্যোগের কাজ শুরু করি, তখন সমাজে এই উদ্যোগকে তেমন কোনো মূল্যায়ন করা হতো না।চারিদিক থেকে এতো মানুষের কথা মানসিক ভাবেও আমাকে ভেঙে দিয়েছিল বার বার।
৫.
প্রথম পাওয়া সবকিছুই বিশেষ হয়।আমার প্রথম অর্ডার ছিল একজন মডেলের।আমি খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম প্রথম অর্ডার পাওয়ার পর, খুবই আগ্রহ কাজ করেছিল আমার জীবনে পাওয়া প্রথম অর্ডারের কাজে। আর তখন থেকেই প্রত্যেকটা অর্ডার আমাকে আরও বেশি করে অনুপ্রেরণা জোগায় কাজ করার জন্য।
৬.
আমার পেইজের নামটিই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।এর সাথে আমি বলবো আমার পণ্যের ভাইব কিছুটা হলেও আলাদা। প্রত্যেকটা গহনাই আমার নিজ হাতে যত্নের সাথে তৈরি করা হয়। তাই বলবো যে আমার পেইজকে আলাদা ভাবে চেনানোর জন্য আমি আমার পণ্যের বিভিন্নতা কে গুরুত্ব দেই।
৭.
জীবনে নতুন ভাবে কিছু শুরু করলে অনেক ভুলের সম্মুখীন ই হতে হয়,আর আমার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাও ছিল না। আমি নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে আমার ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষা থেকে বলতে চাই। সেগুলো হলো, কুরিয়ার সার্ভিস সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখা,কীভাবে পণ্যের সরবরাহ করতে হয় তা না জানা। এছাড়া উদ্যোগের পণ্যের সোর্সিং কীভাবে করতে হবে সেটা জানা টাও অনেক জরুরী।
৮.
ঘরের কাজের পাশাপাশি উদ্যোগ পরিচালনা – এই দুই দায়িত্ব একসাথে সামলানোর জন্য আমি বলবো,সঠিক পরিকল্পনা ও রুটিন মাফিক চলতে পারলে সব কাজই সহজ।বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলো ফজরের নামাজ পড়ে দিন শুরু করা। আপনি যদি আপনার দিনটা ফজর দিয়ে শুরু করেন, তাহলে দেখবেন আপনার কাজের ক্ষেত্রেও অনেক বারকাহ্ চলে আসবে। তারপর একে একে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজে লেগে পড়া।
৯.
একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে আমার বান্ধবী এশু।সেই আমাকে প্রথম আমার কাজের ব্যাপারে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। কাজ শুরু করার পর গ্রাহকদের থেকে পাওয়া রিভিউ এবং অনলাইনে একেকজনের কমেন্ট আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করে।আর এভাবেই নিজ উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে চলেছি।
১০.
আমি বলবো আমার ব্যবসায়ে সোশ্যাল মিডিয়াই মূখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। যেহেতু আমার অফলাইনে কোনো স্টোর বা শো রুম নেই, তাই আমার কাজের প্রচারণা, আমার পণ্যের পরিচিতি, অর্ডার পাওয়া, নেটওয়ার্কিং করা সব কিছুই অনলাইন নির্ভর। আর এই ব্যাপারে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে নিজেকে এবং নিজের উদ্যোগকে যথা সম্ভব বেশি বেশি করে নেটওয়ার্কিং করা।
১১.
অনেক বারই এমন মনে হয়েছে যে আমি আর পারবো না। এখনো চারপাশের মানুষের কথায় মন খারাপ হয়ে যাই, মনে হতে থাকে আর পারবো না হয়তো। এরপর নিজেকে একটু ব্রেক দেই সবকিছু থেকে। তারপর নিজেই নিজেকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে আবার কাজে লেগে যাই,চেষ্টা করতে থাকি। বার বার এভাবে রিস্টার্ট নেই।
১২.
আলহামদুলিল্লাহ্। উদ্যোগে দীর্ঘ সময় আমি আমার পরিবার থেকে তেমন সাপোর্ট পাইনি বলা চলে। তবে এখন যতোটা পাই, আলহামদুলিল্লাহ্।
১৩.
আমি চাই উদ্যোক্তা হিসেবে গর্বের সাথে পুরো পৃথিবীতে বাংলাদেশের নাম ছড়িয়ে দিতে।
১৪.
যারা ঘরে বসে কাজ জানে কিন্তু সাহস পায় না,তাদের জন্য একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আমার পরামর্শ হলো কোনো বিষয়ে যদি আপনার আত্মবিশ্বাস থাকে যে আপনি সত্যিই কিছু পারেন,তাহলে সেটা নিয়েই সামনে আগানো শুরু করুন।
১৫.
একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আমার কাছে সাফল্য হলো সুনামের সাথে নিজের উদ্যোগকে, কাজকে সাথে নিয়ে মানুষের কাছে পরিচিত হওয়া। আর্থিক স্বাধীনতার পাশাপাশি নিজের অনন্য পরিচয় তৈরি করা।

