নাম: জেবিন সুলতানা (জারা)
পেইজের নাম: জারা ফ্যাশন (Jara Fashion)
কোথা থেকে কাজ করছি: খিলক্ষেত, ঢাকা।
পণ্য পরিচিতি: আমরা প্রিমিয়াম মানের বেডশিট, কমফোর্টার, পর্দা, কুশন কভার, তোয়ালে, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন হোম ও লাইফস্টাইল পণ্য নিয়ে কাজ করছি। সারা বাংলাদেশে ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছি।
১. আপনার উদ্যোগ শুরু করার পেছনে আপনার ব্যক্তিগত গল্পটা কী?
আমি খুব অল্প পুঁজি নিয়ে ২০১৭ সালে উদ্যোক্তা জীবনের শুরু করি। পরিবার ও নিজের স্বপ্নকে একসাথে এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই এই পথচলা। মানুষের ভালোবাসা আর বিশ্বাসই আমাকে ব্যবসাটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছে।
২. এই পণ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সমাজ বা পরিবার থেকে প্রথম যে বাধার মুখে পড়েছিলেন, সেটি কী ছিল?
শুরুতে অনেকেই অনলাইন ব্যবসাকে গুরুত্ব দিতেন না। অনেকেই বলতেন, এটা দিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি এবং ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়ে গেছি।
৩. এই পণ্যকে বছরজুড়ে ব্যবসায়িকভাবে ধরে রাখার কৌশল কী?
ভালো মানের পণ্য, সাশ্রয়ী মূল্য, আন্তরিক সেবা, নতুন নতুন কালেকশন এবং ক্রেতার সন্তুষ্টিকে সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই আমার মূল কৌশল।
৪. একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটা ছিল?
আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মানসিক এবং সামাজিক। সংসার, সন্তান ও ব্যবসা—সবকিছু একসাথে সামলে নিজের স্বপ্ন ধরে রাখা সহজ ছিল না।
৫. প্রথম অর্ডার পাওয়ার দিনটার অনুভূতি কেমন ছিল?
প্রথম অর্ডারের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মনে হয়েছিল, আমার স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পথে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছি। সেই আত্মবিশ্বাসই আজও আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
৬. আপনার পেজকে আলাদা করে চেনানোর জন্য আপনি কোন বিষয়টাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন?
আমি সবসময় পণ্যের মান, সততা এবং ক্রেতার বিশ্বাসকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। কারণ একজন সন্তুষ্ট ক্রেতাই আমার সবচেয়ে বড় প্রচারক।
৭. ব্যবসা শুরু করার আগে যে ভুলগুলো করেছিলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের কোন ভুলটা না করতে বলবেন?
শুধু লাভের কথা না ভেবে আগে বিশ্বাস অর্জন করুন। ধৈর্য হারাবেন না এবং পণ্যের মানের সঙ্গে কখনো আপস করবেন না।
৮. সংসার আর ব্যবসা—এই দুই দায়িত্ব একসাথে কীভাবে সামলান?
পরিকল্পনা করে সময় ভাগ করে কাজ করি। পরিবারের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় ব্যবসার জন্য রাখি।
৯. নিজের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে কে?
সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে আমার নিজের ইচ্ছাশক্তি। পাশাপাশি পরিবারের সহযোগিতা এবং ক্রেতাদের ভালোবাসা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে।
১০. সোশ্যাল মিডিয়া আপনার ব্যবসায় কতটা ভূমিকা রেখেছে?
সোশ্যাল মিডিয়াই আমার ব্যবসাকে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের বলব, নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করুন এবং সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করুন।
১১. কখনো কি মনে হয়েছে “আর পারছি না”?
হ্যাঁ, এমন মুহূর্ত এসেছে। কিন্তু আমার স্বপ্ন, পরিবারের কথা এবং ক্রেতাদের বিশ্বাস আমাকে আবার নতুন করে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।
১২. আপনার সাফল্যের পেছনে পরিবারের ভূমিকা কেমন ছিল?
পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া এত দূর আসা সম্ভব হতো না। তাদের উৎসাহ ও সমর্থন সবসময় আমার শক্তি।
১৩. আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কী?
আমি চাই জারা ফ্যাশন দেশের অন্যতম বিশ্বস্ত হোম ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক এবং আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারি।
১৪. যারা ঘরে বসে কাজ জানে কিন্তু সাহস পায় না—তাদের জন্য এক লাইনের বার্তা।
“শুরু করুন, ছোট থেকে শুরু হলেও একদিন বড় সাফল্য আপনার হাত ধরবেই।”
১৫. একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্য আপনার কাছে কী?
সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নয়, নিজের পরিচয় তৈরি করা, মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা এবং অন্য নারীদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগানোই আমার কাছে প্রকৃত সাফল্য।

