পত্রিকার পাতা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

নাটোরে বাড়ছে আখ ও ভুট্টার আবাদ, কমছে আম চাষে আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ২১, ২০২৬ ৬:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নাটোরে বাণিজ্যিকভাবে আখ ও ভুট্টার চাষ বাড়ছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম, রোগবালাই কম হওয়া এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা এখন এই দুই ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে, একসময় জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত আম চাষে আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
জেলার লালপুর, বাগাতিপাড়া ও বড়াইগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আখ ও ভুট্টার আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার নাটোরে ১৪ হাজার ৭৩৭ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি নাটোর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আখ ও ভুট্টা চাষে সেচ ও পরিচর্যা ব্যয় তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে উন্নত বীজ ও ঋণ সুবিধা পাওয়ায় কৃষকেরা উৎসাহিত হচ্ছেন।
একসময় নাটোরে আমের আবাদ দ্রুত বাড়লেও এখন সেই প্রবণতা উল্টো পথে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে জেলায় আমের আবাদি জমি ছিল ৫ হাজার ৭২৪ হেক্টর। তখন উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৭৯ হাজার ৭৬৭ টন আম। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালে আবাদি জমি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টরে। একই সঙ্গে কমেছে গাছের সংখ্যাও।
চলতি মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার ৪৫১ টন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং বাজারে কম দামের কারণে অনেক কৃষক আম চাষ থেকে সরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ফলচাষি সেলিম রেজা বলেন, জমির ইজারা মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আম চাষে লাভ কমে গেছে। অন্যদিকে ভুট্টা ও আখ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা বিকল্প ফসলে ঝুঁকছেন।
বড়াইগ্রামের কৃষক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, আগে তাঁর ৩০ বিঘা জমিতে আমের বাগান ছিল। এখন সেখানে আখ ও ভুট্টার চাষ হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, প্রতিকূল আবহাওয়াতেও আখের ফলনে তেমন প্রভাব পড়ে না, আর ভুট্টা তুলনামূলক বেশি লাভজনক।
আম ব্যবসায়ীরাও বলছেন, গত কয়েক বছরে আমের বাজারদর কমেছে। আগে যেসব জাতের আম উচ্চমূল্যে বিক্রি হতো, এখন সেগুলোর দাম অনেকটাই কমে গেছে। ফলে অনেক বাগানমালিক বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, লক্ষ্মণভোগসহ কিছু জাতের আমের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কৃষক পুরোনো গাছ কেটে নতুন উচ্চমূল্যের জাতের আমগাছ রোপণ করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোরের উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, কৃষিতে বৈচিত্র্য বাড়ার কারণে কৃষকেরা এখন বেশি লাভজনক ফসলের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। একই সঙ্গে আধুনিক পদ্ধতিতে ঘন আকারে আম চাষও শুরু হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে নাটোরে আখ ও ভুট্টার ফলন ভালো হচ্ছে। এতে জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।