চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আয়োজনে গত বুধবার বিএফডিসিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ঘিরে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ছবি তোলার সময় অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘিকে এড়িয়ে যান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। এ নিয়ে নানা আলোচনা চলার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাল শাড়ি পরা দীঘি ফ্যাশন ডিজাইনার গৌতমের সহায়তায় তথ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে ছবি তোলার জন্য দাঁড়ান। তবে মন্ত্রী সৌজন্য বজায় রেখে হাসিমুখে তাঁর আরেকটি কাজ রয়েছে বলে জানান। এরপর কুশল বিনিময় করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। এ সময় দীঘির মুখেও কিছুটা বিব্রত ভাব দেখা যায়।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন জয়। এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, বহু মানুষ যেখানে দীঘির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য আগ্রহী থাকেন, সেখানে তথ্যমন্ত্রীর মধ্যে ছবি তোলার বিষয়ে কোনো অতিরিক্ত উৎসাহ দেখা যায়নি।
ঘটনাটি থেকে দুটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে জয় বলেন, প্রথমত, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সরকারের কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী ও উপদেষ্টার চলচ্চিত্র অঙ্গনে উপস্থিতি পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি সুবার্তা। দ্বিতীয়ত, কাজের বাইরে অকারণে মন্ত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ভবিষ্যতে যেন শিল্পীদের বিপদে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রী পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।
জয় লেখেন, ‘মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ভবিষ্যতে বিপদে না পড়ার জন্য শিল্পীকে সহযোগিতা করলেন। শিল্পীদের বোঝা উচিত কাজের বাইরে অকারণে মন্ত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার দিন শেষ। পূর্বের দিনগুলোতে আমাদের সকলের অভিজ্ঞতা খুবই ভয়াবহ। কাজটাই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। আর আমাদের ইন্ডাস্ট্রি স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে এবং আমরা যার যার প্রতিভা বিকাশে সফল হলে মন্ত্রীরা নিজেরাই এসে আমাদের সাথে ছবি তুলবেন।’
এ ছাড়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে চলচ্চিত্র অঙ্গনের গুণীজনদের একত্র করে এমন আয়োজন করার জন্য চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিকে অভিনন্দন জানান জয়। একই সঙ্গে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে চলচ্চিত্রের প্রধানতম অভিভাবক ও নেপথ্যের নায়ক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।


