বিজ্ঞাপন Walton Refrigerator Freezer Offer
পত্রিকার পাতা
ঢাকাশুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আউশ ধানের আবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দিনাজপুরে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল বুধবার বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, চলতি বছর জেলায় ৯ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি বিভাগ। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শ ও নিবিড় পরিচর্যার ফলে কৃষকেরা অতিরিক্ত ১২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে এবার জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ৯ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একসময় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আউশ ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে কৃষি বিভাগের নেওয়া উদ্যোগ সফল হয়েছে।

মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুই বছর আগে কৃষি বিভাগের গবেষণায় উদ্ভাবিত উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাত ব্রি-৯৮ আউশ ধান চাষ করে জেলায় ভালো ফলন পাওয়া গেছে। চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় ৯ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মৌসুমের শুরুতেই গত মে মাসে জেলার ১৩টি উপজেলার ৭ হাজার ৩৫০ জন কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে ব্রি-৯৮ জাতের আউশ ধানের বীজ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়।

আউশ ধানের আবাদ সফল করতে জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জেলার সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কর্ণাই ও নশিপুর—এই দুটি গ্রামের কৃষকেরা সমবায়ভিত্তিতে এবার ব্রি ধান-৯৮ জাতের আউশ ধান চাষ করেছেন। সাড়ে তিন মাসের মধ্যে আউশ ধানের ফলন ঘরে তুলতে পেরে কৃষকেরা খুশি।

তিনি জানান, এক একর জমিতে ৭৫ থেকে ৮০ মণ ধানের ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের বিনা মূল্যে দেওয়া বীজ, সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে অনাবাদি জমি অধিক উৎপাদনশীল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বাজারে কাঁচা ধান ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আউশ ধানের খড় বিক্রি করেও বাড়তি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ধান বিক্রির পাশাপাশি খড় বিক্রি করে কৃষকেরা তাঁদের খরচের একটি অংশ তুলতে পারছেন।

জেলার বিরল উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক মো. খাদেমুল ইসলাম (৪৫) জানান, ‘চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে বীজতলা তৈরি করে ব্রি-৯৮ জাতের আউশ ধানের চারা রোপণ করেছিলাম। কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে সেচ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারে বেশ ভালো ফলন হয়েছে। ভাদ্র-আশ্বিনের এ সময়ে মাঠজুড়ে আউশ ধানের সোনালি শোভা কৃষকদের মন ভরে তুলেছে। কৃষকেরা তাঁদের ফলন পাওয়া ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছেন।’

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধান কাটার পর ওই জমিতে আগাম জাতের আলু চাষের প্রস্তুতি শুরু করবেন কৃষকেরা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আউশ ধান ঘরে তুলে একই জমিতে আলু চাষের পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা।

জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি ও ভিয়াইল গ্রামের কৃষকেরা বলছেন, নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল আউশ ধান চাষ তাঁদের সাফল্য এনে দিয়েছে।

বিন্যাকুড়ি গ্রামের কৃষক মো. আব্দুর রহমান (৪৮) জানান, এ বছর তিনি ৭৮ শতক জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন। ওই জমি থেকে তিনি ৬৭ মণ আউশ ধান পেয়েছেন। ধান বিক্রি করে তিনি আগাম জাতের আলু চাষ করবেন। আগামী বছর এ জাতের আউশ ধান আরও বেশি জমিতে আবাদ করার আশা করছেন এলাকার প্রায় সব কৃষক।

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বাসসকে বলেন, এ অঞ্চলের জমি কিছুটা উঁচু এবং লালমাটির হওয়ায় আগে শুধু রবি শস্য চাষে ব্যবহার করা হতো। আমন বা ইরি-বোরো ধান এখানে চাষ করা হতো না। সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে উন্নত জাতের আউশ ধান চাষ শুরু করা হয়েছে। এখন ওই জমিতে তিনটি করে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে বিনা মূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করে কৃষকদের ফসল উৎপাদনে এগিয়ে নেওয়ায় কৃষকেরা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বাসসকে বলেন, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় ৯৭২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের অধিক উৎপাদন হয়েছে। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া উন্নত জাতের আউশ ধান চাষ করে কৃষকেরা স্বল্প সময়ে ভালো ফলন পেয়েছেন। আগামীতে আরও বেশি কৃষক আউশ ধান চাষে আগ্রহী হবেন। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, গত কয়েক দিনে তিনি জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় উন্নত জাতের ব্রি-৯৮ আউশ ধানের ক্ষেত সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কৃষকের ফলন পাওয়া ধানের ক্ষেতের উৎপাদন দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষি বিভাগের উদ্ভাবিত উন্নত জাতের আউশ ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে, এটিকে ভালো লক্ষণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছর জেলায় কৃষি বিভাগ আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। সরকারি কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে গত বছর ৫ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ৪ হাজার ৫৪২ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত আউশ ধান চাষ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।