নবাবগঞ্জ, ঢাকা: এক সময় সাধারণ গৃহিণী ছিলেন মাফিয়া সুলতানা। এখন তিনি পরিচিত একজন নারী উদ্যোক্তা — তার হাতে তৈরি কেক, পুডিং, পিজা, রোল কিংবা বার্গারের নামেই আজ পরিচিত Mafia’s Bakery। নবাবগঞ্জ থানার মাশাইল গ্রাম থেকে শুরু করা এই উদ্যোক্তা এখন অনলাইন এবং অফলাইনে সমান সফল। বিভিন্ন মেলায় অংশ নিয়ে তিনি তার পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করে আসছেন, আর এইভাবেই ছড়িয়ে দিচ্ছেন তার স্বপ্নের ঘ্রাণ।
ছোটবেলা থেকেই রান্নার প্রতি ঝোঁক ছিল মাফিয়ার। তবে বেকিংয়ের প্রতি আলাদা এক টান তাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যায়। “আমার পুঁজি ছিল আত্মবিশ্বাস, আর মূলধন ছিল মানুষের নেতিবাচক কথাগুলো,” বলেন মাফিয়া। “যখনই কেউ আমাকে ছোট করেছে, সেই কথাগুলোই আমাকে আরও শক্ত করেছে।”
তার এই পথচলায় পরিবারের সহযোগিতা ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা শুধু পাশে থেকেছেন তাই নয়, মানসিক সাহস, উৎসাহ ও ভালোবাসা দিয়েছেন প্রতিটি মুহূর্তে। “আমার পরিবারই আমার ব্যবসার আসল ভিত্তি ও অনুপ্রেরণার উৎস,” জানালেন মাফিয়া সুলতানা।
বেকিং শেখার শুরু ছিল ইউটিউব দেখে, পরে তিনি নাহিদা আপুর কাছে কোর্স করেন। নিজের শিক্ষিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন ভালো শিক্ষক মোমবাতির মতো — নিজেকে পুড়িয়ে অন্যের পথ আলোকিত করেন। নাহিদা আপু, আপনি আমাদের সেই আলোকিত দিশারী।”
এছাড়া তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হাসিনা আনছার আপুকে, নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় যার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ Mafia’s Bakery শুধু একটি বেকারি নয় — এটি একজন নারীর আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও স্বপ্নপূরণের প্রতীক। মাফিয়া সুলতানা প্রমাণ করেছেন, সাহস নয়, পরিশ্রমই সাফল্যের মূলমন্ত্র।

