পত্রিকার পাতা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

রাজশাহী-ময়মনসিংহে সবজি বাজার অস্থির

Md Abu Bakar Siddique
নভেম্বর ২১, ২০২৫ ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজশাহী ও ময়মনসিংহের বাজারে শীতকালীন  সবজির দাম হঠাৎ বেড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। ফলে দাম লাফিয়ে বেড়েছে। রাজশাহী ব্যুরো ও বিভাগীয় প্রতিনিধি ময়মনসিংহের পাঠানো সংবাদ।রাজশাহীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমি সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গোল আলু ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা, হল্যান্ড আলু ১৫-১৮ টাকা থেকে ২৮ টাকা, বেগুন ও শিম ৯০-১০০ থেকে বেড়ে ১২০-১৩০ টাকা, টমেটো ১২০-১৩০ থেকে ১৬০-১৮০ টাকা। ফুলকপি ৩৫-৪০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, মুলা ২০ থেকে ৪০ টাকা, কচু ৪০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া পালংশাক, লালশাক, ধনেপাতা ও অন্যান্য পাতার দামও ১০-২০ টাকা বেড়েছে। লাউয়ের দাম আপাতত স্থির রয়েছে।পেঁয়াজের বাজারও অস্থির। দেশি পেঁয়াজ কেজি ১০০-১১০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বৃষ্টিতে অনেক জমি পানির নিচে ছিল। এখনো অনেক কৃষকের জমি শুকায়নি। ফলে আগাম সবজির সরবরাহ কম। আমরাও আগের মতো মাল তুলতে পারছি না। বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে। শালবাগানের বাসিন্দা ফেরদৌসী খাতুন বলেন, ‘আগে ২০০-২৫০ টাকায় দুই-তিন রকম সবজি পাওয়া যেত। এখন ৪০০ টাকা দিয়েও ঠিকমতো বাজার করা যাচ্ছে না। বাচ্চাদের জন্য শাকসবজি কিনতেও ভাবতে হচ্ছে। মাংস-মাছ কিনতেও কষ্ট; সবজির দাম এভাবে বাড়লে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে যাবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই দিনের অতিবৃষ্টিতে ১৯ হাজার ৫৬৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৪৯ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ এবং ১৩ হাজার ৮৬০ হেক্টর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। মোট আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।সবচেয়ে বেশি ক্ষতি আমন ধানে। ৫৮৫ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ১২ হাজার ৫০১ হেক্টর আংশিক ধান নষ্ট হয়েছে। সবজির ক্ষেত্রেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। ১০৮ হেক্টরে সবজি পুরোপুরি এবং ৪৩৪ হেক্টরে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। রসুন, সরিষা, আগাম পেঁয়াজ ও আগাম আলুখেতেও বড়ধরনের ক্ষতি হয়েছে।তানোর উপজেলার কৃষক আবদুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ হেক্টর জমির আগাম আলু, পেঁয়াজ ও ফুলকপির চারা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এই ক্ষতি সামাল দিতে আগামী মৌসুমেও সময় লাগবে। নতুন করে জমি প্রস্তুত করা, চারা আনা- সবকিছুই ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান জানান, ‘আগামী দুই সপ্তাহ সরবরাহে চাপ থাকবে। বৃষ্টির পানি নেমে গেলে অনেক খেতে পুনরায় চারা লাগানো শুরু হবে। ডিসেম্বরের শুরু থেকে নতুন সবজি বাজারে এলে দাম কমতে থাকবে।’ অন্যদিকে ময়মনসিংহের বাজারেও একই চিত্র। সরবরাহ কমানোর অজুহাতে সবজির দাম কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ময়মনসিংহ শহরের মেছুয়া বাজারে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ কেজিতে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, শিম ৭০ থেকে ১০০, করলা ৫০ থেকে ৮০, ধুন্দুল ৩০ থেকে ৫০, ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৬০, পটোল ৪০ থেকে ৬০, চিকন বেগুন ৪০ থেকে ৬০, চিচিঙ্গা ৩০ থেকে ৫০, ঝিঙে ৪০ থেকে ৬০, শসা ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০, গোল বেগুন ৬০ থেকে ৭০, কাঁচা পেপে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টিকুমড়া ৩০, চায়না গাজর ১৬০, টমেটো ১২০, কচুরমুখী ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লাউ ৬০ টাকা পিস, কাঁচকলা ৪০ টাকা হালি, লেবু ২০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দামও বেড়েছে। মৃগেল ২৯০-৩৪০ থেকে ৩০০-৩৫০, শিং ৩৫০-৬৫০ থেকে ৩৬০-৬৬০, রুই ৩৩০-৪৩০ থেকে ৩৪০-৪৪০, সিলভার কার্প ২২০-২৯০, তেলাপিয়া ২১০-২৯০, শোল ৬০০-৮৫০, ট্যাংরা ৫৩০-৮০০, টাকি ৪২০-৫৫০, কাতলা ৩৫০-৪৩০, পাঙাশ ১৭০-২০০, পাবদা ৪০০-৫৩০, কালবাউশ ৩৪০-৪০০, কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।ব্রয়লার মুরগি ১৬০, কক মুরগি ৩০০, খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।বাজারে আসা ক্রেতারা অসন্তুষ্ট। সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে সবজির প্রচুর সরবরাহ আছে। অথচ সরবরাহ কমানো অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে।’ আবদুল হাই বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত মনিটরিং নেই। অসাধু বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে।’

সবজি বিক্রেতা হাফিজ মিয়া বলেন, ‘কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজারে সরবরাহ কমেছে। তাই দাম বেড়েছে। শীতের সবজির সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমতে পারে।’ মাছ বিক্রেতা লিটন মিয়া বলেন, ‘আড়তদাররা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। খুচরা বিক্রেতারাও দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক আবদুস ছালাম বলেন, ‘দাম বাড়ানোর যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে। যদি বিক্রেতারা অহেতুক দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে, আমরা তদারকি করব। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।