ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় জন্ম নেওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাতের জীবন শুরু হয়েছিল একেবারে সাধারণভাবে। তবে আজ তার গল্প অনুপ্রেরণার নতুন অধ্যায় হয়ে উঠেছে। একসময় নিজেই চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছিলেন—শারীরিক অসুস্থতা, চাকরির সীমাবদ্ধতা, এবং পরিবারের সীমিত সমর্থন—তবু তিনি থেমে থাকেননি। জান্নাত বলেন, “উন্নতির জন্য শুধু ডিগ্রি নয়, দরকার স্বপ্ন, সাহস আর একটি সহায় হাত। আমি সেই হাতটা অন্য নারীদের জন্য বাড়িয়ে দিচ্ছি।”
শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, তিনি নিজেই অনলাইনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল শিখেছেন। ইউটিউব, ফেসবুক এবং অন্যান্য অনলাইন মাধ্যম ঘেঁটে জান্নাত রপ্ত করেছেন ব্যবসার নানা দিক। আত্মশিক্ষা, দৃঢ়সংকল্প আর নিজস্ব প্রয়াসের মাধ্যমে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন।
নিজের পরিচয় গড়ার লড়াই
জান্নাতের মূল লক্ষ্য ছিল একটাই—নিজের নামে পরিচিত হওয়া। তিনি বলেন, “আমি চাই, মানুষ আমাকে শুধু উদ্যোক্তা হিসেবে নয়, আমার নামেই চেনে। আমি চাই, আমার পাশে যারা আছে তারা নিজের পরিচয়ে দাঁড়াক।”
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি তৈরি করেছেন বিএইচ বিজনেস ক্লাব। এটি শুধুই একটি ব্যবসায়িক ক্লাব নয়; এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নারী ও তরুণরা নিজেদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথ খুঁজে পান। ক্লাবের প্রতিটি কোর্স, ওয়ার্কশপ বা প্রশিক্ষণ পণ্যের ওপর নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা এবং নিজের পরিচয় গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়।
প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা শিক্ষা
বিএইচ বিজনেস ক্লাবে অনলাইনে ব্যবসা শুরু, হ্যান্ডমেড পণ্য, কেক বেকিং, ফ্যাশন, সেলাই, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি শেখানো হয়। ক্লাবের প্রতিটি উদ্যোক্তা জান্নাতের নীরব সমর্থনে নিজের পরিচয় তৈরির সুযোগ পান।
জান্নাতের মিশন একটাই—নারী ও তরুণদের স্বাবলম্বী করে তোলা। তার বিশ্বাস, “নিজের পায়ে দাঁড়ানো মানে শুধু উপার্জন নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, সম্মান এবং সমাজে নিজের জায়গা খুঁজে নেওয়ার লড়াই।”
সমাজে নতুন এক বার্তা
বিএইচ বিজনেস ক্লাব শুধু ব্যবসা শেখায় না; এটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের অনন্য জায়গা। জান্নাত তার গল্পের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, সাহস আর স্বপ্ন থাকলেই সীমাবদ্ধতাকে জয় করা যায়।

