পত্রিকার পাতা
ঢাকাসোমবার , ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতার দৌরাত্ম: দলীয় মনোনয়নের আগেই প্রার্থী ঘোষণা—প্রশ্নবিদ্ধ নিরপেক্ষতা

Main Admin
অক্টোবর ২৩, ২০২৫ ৫:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সামনে এলেই প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক পদে থাকা কিছু ব্যক্তির আচরণ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দেশের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এমন কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন, যা তাঁর পদের নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা: সংবিধান কী বলে

সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। তিনি সরকারের পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা করেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে আইনি পরামর্শ দেন এবং বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ, এই পদটি রাজনৈতিক নয়, বরং আইনি ও ন্যায়নিষ্ঠ অবস্থানের প্রতীক।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের কিছু মন্তব্য ও আচরণে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেকে শুধুমাত্র রাষ্ট্রের প্রতিনিধি নয়, বরং একটি রাজনৈতিক অবস্থানের রক্ষক হিসেবেও উপস্থাপন করছেন। এই প্রবণতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
বিতর্কের সূত্রপাত
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, জনাব আসাদুজ্জামান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন—
“আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে, কেউ চাইলেও তা ঠেকাতে পারবে না। জনগণ রুখে দেবে।”
এই ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য সাধারণত কোনো নির্বাচনী প্রার্থী বা দলীয় নেতা দিয়ে থাকেন, কোনো সাংবিধানিক পদে আসীন আইন কর্মকর্তা নয়। এর পরপরই বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ওঠে—তিনি নাকি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগেই নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছেন। সম্প্রতি তার নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে এমন নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, কেন্দ্র তাকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে অথচ অন্তবর্তীকালীন সরকার এখনো নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেনি এবং দলের চূড়ান্ত মনোনয়নও সম্পন্ন হয়নি। অথচ একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এলাকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করা কতটুকু বিধিসম্মত!
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন ঘোষণা প্রমাণিত নয়, তথাপি তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক সভায় উপস্থিতি এবং গণমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যসমূহ অনেকের কাছেই “ক্ষমতার আগাম প্রয়োগ” হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার নাকি রাজনৈতিক আনুগত্য?

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় “পক্ষপাত” বা “রাজনৈতিক প্রভাব”–এর অভিযোগ নতুন নয়। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো পদধারীর কাছ থেকে রাজনৈতিক আনুগত্যের ইঙ্গিত ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর সরাসরি আঘাত হানে। সম্প্রতি তিনি একটি ভিডিওতে সরাসরি ফ্যাসিস্ট আমলে রাজনৈতিক সহিংসতার সাথে সংশ্লিষ্ট দলীয় এমপিকে মুক্তির ব্যবস্হা করেছেন মর্মে ঘোষণা দিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন অ্যাটর্নি জেনারেল যদি নির্বাচনের আগে বা চলাকালে নিজেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তবে সেটি সংবিধানবিরোধী নয় কেবল—বরং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জনগণের আস্থা ও নৈতিক সংকট
বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন ও স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশের প্রত্যাশা করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার রাজনৈতিক আচরণ জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারে।
রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্য একটি ব্যক্তিগত অধিকার, তবে তা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে মিশে গেলে সেটি হয় নৈতিক সংকট। গণতন্ত্র তখন দুর্বল হয়, বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, আর প্রশাসন হারায় নিজের মর্যাদা।

আইনি ও প্রশাসনিক পরিণতি

অ্যাটর্নি জেনারেলের এই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তিনটি বড় ঝুঁকি দেখা দিতে পারে—
বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়বে, ফলে আইনি প্রক্রিয়া দুর্বল হবে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে, কারণ রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিনিধিতে পরিণত হবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষ করে গণতন্ত্র ও সুশাসনের সূচকে।
সমাধানের পথ
প্রথমত, সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য “রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি” কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের আগে এমন পদধারীদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য আইনি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।
তৃতীয়ত, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করতে হবে—যাতে জনগণ জানতে পারে কে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, আর কে দলের।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতার প্রভাব নতুন নয়, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার মাধ্যমে তার প্রকাশ নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই যদি কেউ সাংবিধানিক পদে থেকে নিজের প্রার্থিতার ইঙ্গিত দেন, তবে সেটি গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত।
রাষ্ট্রীয় পদ মানে কেবল মর্যাদা নয়, এটি জনগণের আস্থার প্রতীক। সেই আস্থা যদি রাজনীতির অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তবে আইনের শাসন থাকবে কাগজে, বাস্তবে নয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।