মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে করলার আবাদ। স্বল্প সময় এবং কম খরচে উৎপাদন হওয়ায় লাভের আশায় কৃষকরা এ ফসলে ঝুঁকছেন। তবে এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে সেই আশায় নেমেছে ভাটা। বারবার বৃষ্টিতে ফলন কমেছে, বাজারদরও কমেছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। গত বছর প্রতি বিঘায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হলেও এবার অনেকেই খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।সদর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১২০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর বেশি। প্রতি বিঘায় আবাদে খরচ হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এখানকার করলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে যাচ্ছে।জাগির, গড়পাড়া, দিঘী ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মাঠে দেখা গেছে, সারি সারি মাচায় ঝুলে আছে সবুজ করলা। কৃষকরা কেউ ফল কাটছেন, কেউ বাছাই করছেন। বিশেষ করে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে চাষ বেশি হওয়ায় গড়ে উঠেছে দুটি অস্থায়ী আড়ত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানে চলে দর হাঁকা, বাছাই আর পাইকারদের ভিড়।
জাগির ইউনিয়নের কৃষক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রতি বিঘায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে। গত বছর এক বিঘা থেকে লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছিল। এবার বৃষ্টি বেশি হওয়ায় গাছ নষ্ট হয়েছে। ফলন কমেছে। এখন দাম কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা। তাই লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠবে কি না, চিন্তায় আছি।’ কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর গ্রামের কৃষক আবদুল মালেক বলেন, ‘চার বিঘায় করলা করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। কষ্ট করে চালান উঠেছে। লাভ হলেও খুব সামান্য। এ বছর দামও কম, তাই চিন্তা বেশি।’ কৃষক লাভলু মোল্লা জানান, ‘যারা আগাম চাষ করেছে তাদের লাভ হয়েছে। একটু দেরিতে যারা শুরু করেছে তাদের শুধু খরচটাই উঠেছে। আমি আগাম চাষ করায় সুবিধা পেয়েছি। তবে আগে যেখানে এক বিঘা থেকে যে লাভ পেতাম, এবার দুই বিঘার উৎপাদন বিক্রি করেও সেই লাভ হয়নি।’
কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর গ্রামে গড়ে ওঠা দুটি অস্থায়ী আড়তে প্রতিদিনই করলা কেনাবেচা হচ্ছে। আড়তের ম্যানেজার বাবু বলেন, ‘গত বছর প্রতিদিন ৪০০-৪৫০ মণ করলা উঠত। এবার উৎপাদন কম। এখন সর্বোচ্চ ২৫০ মণ আসে। দামও কম। আমাদের লাভও আগের তুলনায় অনেক কম।’
করলা কিনতে আসা পাইকার মনসর হোসেন বলেন, ‘এখানকার করলার মান ভালো। আগে বিভিন্ন খেত থেকে আলাদা আলাদা কিনতে হতো। এখন আড়ত হওয়ায় একসঙ্গে অনেক করলা পাওয়া যায়। এতে সুবিধা হচ্ছে।’ স্থানীয় কৃষক শরীফ বলেন, ‘আগে দুই-তিন মণ করলা নিয়ে দূরের আড়তে যেতে হতো। এখন গ্রামেই আড়ত হয়েছে। এখানে এনে দিলে সঙ্গে সঙ্গে দাম মেলে। আমাদের জন্য আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। যাতায়াত খরচও কমেছে।’ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম ভূঁইয়া বলেন, ‘বারবার বৃষ্টির কারণে করলার ফলনে প্রভাব পড়েছে। তবে আমরা কৃষকদের উন্নত বীজ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। আগামী মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকলে ও বাজার স্থিতিশীল হলে কৃষকরা আবার ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাবেন।’

