পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
শনিবার দুপুর ১২টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান হয়।
শুভেন্দুর সঙ্গে আরও পাঁচজন শপথ গ্রহণ করেছেন। তারা হলেন—দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। শপথ নেওয়ার ক্রমে প্রথমে শুভেন্দু, তার পর দিলীপ ঘোষ, এরপর অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক।
রাজ্যের নির্বাচনের পর, বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার জানিয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর পদে বাঙালি এবং বাংলামাধ্যমে শিক্ষিত নেতাকেই বাছাই করা হবে।
বিধায়ক দলের বৈঠকে শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারী পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হন। বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল, সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল—শুভেন্দু অধিকারী। দ্বিতীয় কোনো নাম আসেনি। তাই তাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করছি।”
শুভেন্দু অধিকারীর শপথের মাধ্যমে বিজেপি রাজ্যে নিজেদের নেতৃত্ব স্থাপন করেছে এবং রাজ্য রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তৃণমূল সরকারের অত্যন্ত ক্ষমতাধর মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও ২০২০ সালে দলের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুভেন্দুকে বিদ্রোহী করে তোলে।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে মেদিনীপুরে অমিত শাহের এক বিশাল জনসভায় তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর এই দলবদল ছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি এবং তৃণমূলের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা।

