দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো উইকেট না হারিয়ে তৃতীয় দিন পার করেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকেরা এখন পর্যন্ত লিড পেয়েছে ৩৪ রান।
সোমবার চতুর্থ দিনে ব্যাটিংয়ে নামবেন দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (২) ও সাদমান ইসলাম (০)। এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ৪১৩ রান।আলোকস্বল্পতার কারণে আগেভাগে শেষ হয়েছে তৃতীয় দিনের খেলা। এর আগে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস থামে ৩৮৬ রানে। এরপর ২৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানকে চারশ’র নিচে আটকাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। একাই ৫ উইকেটে নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২ উইকেট নিয়েছেন আরেক পেসার তাইজুল ইসলাম। সমান ২ উইকেট পেয়েছেন পেসার তাসকিন আহেমদ।
টেস্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ১৪ বার ফাইফারের দেখা পেলেন মিরাজ। এক বছর পর এই কীর্তি গড়লেন তিনি। বাংলাদেশিদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ ফাইফার পাওয়াদের তালিকায় মিরাজের ওপরে আছেন শুধু সাকিব আল হাসান (১৯) ও তাইজুল ইসলাম (১৭)।
তৃতীয় দিনে মধ্যাহ্নভোজের পর মাঠে নামলেও ভারী বৃষ্টির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল খেলা। মোহাম্মদ রিজওয়ান ফেরার পরপরই বৃষ্টি মাথায় ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয় দুই দলকে। ৬ উইকেটে ৩৫২ রান নিয়ে বৃষ্টি থামার পর আবার মাঠে নামে পাকিস্তান।
রবিবার শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে পাকিস্তান। আজান ওয়াইস ৮৫ ও আবদুল্লাহ ফজল ৩৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন।
দিনটা ভালোই শুরু করে স্বাগতিকেরা। দুজনের দ্বিতীয় উইকেটের ১০৪ রানের জুটি ভাঙেন তাসকিন। ১০৩ রান করে ফেরেন আজান। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি করেছেন এই ওপেনার।
এরপর দ্রুত আরও দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। নিজের দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে তাসকিন ফেরান অধিনায়ক শান মাসুদকে (৯)। পরের ওভারে সৌদ শাকিলকে (৯) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দিন ইমাম-উল-হকে ফিরিয়ে সফকারীদের ১০৬ রানের ওপেনিং জুটিও ভাঙেন এই স্পিনার।
মিরাজ নিজের তৃতীয় শিকার হিসেবে আউট করেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে ফিফটি পাওয়া ফজলকে (৬০)। তার বিদায়ের পর সালমান আগা ও উইকেটরক্ষক রিজওয়ান।
বৃষ্টির আগে ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে গড়েন ১১৯ রানের জুটি। সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৫৯ রান করে ফেরেন রিজওয়ান। পাকিস্তান তৃতীয় দিনে প্রথম সেশনে হারায় ৪ উইকেট। দ্বিতীয় সেশনে ১ উইকেট।
তৃতীয় সেশনের শুরুতে নাহিদ রানার বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সালমান (৫৮)। এরপর বাকিদের কেউ জুটি গড়তে পারেননি। হাসান আলিকে (৬) বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংস থামান তাইজুল। তার আগে শাহিন আফ্রিদিকে (১৩) আউট করে ফাইফার পূর্ণ করেন মিরাজ।

