রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিচে নন—এমন একজন বিচারিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ এবং শারীরিকভাবে অক্ষম নাগরিকদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচর্যাকারী (কেয়ারগিভার) বা নার্স নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও নিয়োজিত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
এ ছাড়া নূর জাহান বেগমের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নিরূপণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত পরিচালনায় নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।
রুলের জবাব দিতে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মির্জা আল মাহমুদ এবং আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।
যেভাবে সামনে আসে ঘটনা
গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাঁর এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং মেয়ে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বাসার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে নূর জাহান বেগমের ব্যবহৃত কক্ষসহ পুরো ফ্ল্যাটের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় দেখা যায়, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
রিটের প্রেক্ষাপট
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মো. শরীফ সরকার গত ৩ জুন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেন।

