পত্রিকার পাতা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

অনন্যা খান: উদ্যোক্তার জীবনের গল্প

Main Admin
জুলাই ৮, ২০২৬ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আমি অনন্যা খান। আমি একজন নারী উদ্যোক্তা। আমি হোমমেড ফুড ও কেক নিয়ে কাজ করি। আমার অনলাইন পেজের নাম Wishful Dessert by Anannya। আমি রামপুরা বনশ্রী থেকে আমার ব্যবসা পরিচালনা করি। এছাড়াও দক্ষিণ বনশ্রীতে আরংয়ের বিপরীতে আমার একটি ছোট্ট ফুড স্টল রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আমি নিজেই কাস্টমারদের জন্য কেক পরিবেশন করি।

আসলে উদ্যোক্তা হওয়ার পথটা মোটেও সহজ নয়। প্রতিটি সফলতার পেছনে থাকে অনেক না বলা গল্প, অনেক ত্যাগ আর অসংখ্য সংগ্রাম। আজ আমি আমার সেই গল্পটাই আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।

২০২০ সালে আমি আমার বড় আপুকে হারাই। এই ঘটনাটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল। আমি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলাম এবং দীর্ঘ সময় ডিপ্রেশনের মধ্যে ছিলাম। তখন মনে হতো, আমার জীবন যেন থেমে গেছে।

এরপর ২০২১ সালে আমি চাকরি শুরু করি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছি। কিন্তু চাকরির পাশাপাশি নিজের একটা পরিচয় তৈরি করার স্বপ্ন সব সময়ই ছিল।

ছোটবেলা থেকেই কেকের প্রতি আমার ভীষণ ভালোবাসা। কেক খেতে যেমন ভালো লাগত, তেমনি কেক বানাতেও খুব আনন্দ পেতাম। একদিন ভাবলাম, যখন আমি নিজেই কেক বানাতে পারি, তখন নিজের জন্যই বানিয়ে দেখি।

আমি এক দিন কেক বানিয়ে আমার এক পরিচিত আপু ও আমার বান্ধবী ও অফিস কলিকদের খাওয়াই সবাই খেয়ে বলতেন, “তোমার হাতে কেকের স্বাদ অসাধারণ। তুমি চাইলে এটা নিয়েই ব্যবসা শুরু করতে পারো।” আপু এবং আমার বান্ধবীরা অনেক সাহস দিয়েছে আমার এই ব্যবসার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তারা।

এরপর আমি বিভিন্ন ধরনের কেক বানিয়ে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের খাওয়াতে শুরু করি। সবার কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাই। সেই সাহস নিয়েই ২০২৩ সালে Wishful Dessert by Anannya নামে আমার অনলাইন পেজ শুরু করি।

চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিদিন ১২–১৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ডিউটি করতাম। তারপর বাসায় ফিরে রাত জেগে কেক বানাতাম। অনেক সময় ভোর ৪–৫টা পর্যন্ত কাজ করেছি। এরপর সকালে কেক ডেলিভারি দিয়ে আবার অফিসে যোগ দিয়েছি। এভাবেই টানা দুই বছর চাকরি আর ব্যবসা একসঙ্গে চালিয়েছি। ক্লান্তি ছিল, কষ্ট ছিল, কিন্তু স্বপ্নের কাছে আমি কখনো হার মানিনি।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে একটি দুর্ঘটনায় আমার পায়ে সমস্যা হয়। তখন আর চাকরি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সেই সময় আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম—এখন কি থেমে যাব, নাকি নতুনভাবে শুরু করব?

আমি থামিনি। প্রতিদিন হাঁটার সময় দেখতাম, দক্ষিণ বনশ্রীতে আরংয়ের সামনে অনেক উদ্যোক্তা নিজেদের পণ্য নিয়ে বসেন। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, আমিও আমার কেক নিয়ে মানুষের সামনে সরাসরি যাব।

অনেক চিন্তা-ভাবনা করে আমি আমার ছোট্ট স্টল শুরু করি। শুরুটা সহজ ছিল না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, যদি পণ্যের মান ভালো হয়, তাহলে মানুষ একদিন অবশ্যই চিনবে।

আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেই বিশ্বাসের ফল পাচ্ছি। অনেক কাস্টমার কেক খেয়ে আমার ফোন নম্বর নিয়েছেন, আমার পেজে রিভিউ দিয়েছেন এবং তাঁদের পরিচিত মানুষদেরও আমার কাছে পাঠিয়েছেন। আজ আমার অনেক রিপিট কাস্টমার রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে, যখন কোনো কাস্টমার হাসিমুখে বলেন, “রোডের সেরা কেকটা আপনার।” এই একটি বাক্যই আমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। তখন মনে হয়, আমার পরিশ্রম বৃথা যায়নি।

আজ আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন একটাই—এই ছোট্ট ব্যবসাকে আরও বড় করে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়া, যাতে আমি আমার নিজের উপার্জনের টাকায় আমার আম্মুকে হজে পাঠাতে পারি। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না। আল্লাহ যদি চান, মানুষের ভালোবাসা আর দোয়া যদি আমার সঙ্গে থাকে, তাহলে একদিন অবশ্যই আমার এই স্বপ্ন পূরণ হবে।

সবশেষে, আপনাদের সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ—আমার এবং আমার ছোট্ট ব্যবসার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাকে সব সময় হালালভাবে রিজিক অর্জনের তাওফিক দান করেন এবং আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করার সুযোগ দেন।

আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।