পত্রিকার পাতা
ঢাকারবিবার , ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

আশুরা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা: কোরআন-হাদিসে যা নেই, যা আমল করা উচিত

Main Admin
জুন ২৬, ২০২৬ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পবিত্র মহররম মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরা, ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। তবে এ দিনকে ঘিরে মুসলিম সমাজে নানা ধরনের বিশ্বাস, প্রথা ও লোকাচার প্রচলিত রয়েছে। এর অনেকগুলোরই কোরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো ভিত্তি নেই। ফলে সামাজিক রীতি ও বংশপরম্পরায় চলে আসা কিছু ভুল ধারণার কারণে আশুরার প্রকৃত শিক্ষা অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়।

আশুরার গুরুত্ব কেন?

ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, মহররমের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ ফেরাউনের জুলুম থেকে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে মুক্তি দেন। মদিনায় হিজরতের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দেখেন, ইহুদিরা এ দিন রোজা রাখে। কারণ জানতে পেরে তিনি বলেন, হজরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে মুসলমানদের অধিকারই বেশি। এরপর তিনি আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখতে উৎসাহিত করেন।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে এসেছে, রমজান মাসের রোজা এবং আশুরার রোজার প্রতি রাসুল (সা.) বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ছিল। পরে এটি নফল রোজা হিসেবে গণ্য হয়। হাদিস অনুযায়ী, আশুরার রোজা রাখলে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী এক বছরের ছোট গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

আশুরা নিয়ে প্রচলিত যেসব বিশ্বাসের ভিত্তি নেই

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, আশুরাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত অনেক ধারণার পক্ষে কোরআন বা সহিহ হাদিসে নির্ভরযোগ্য কোনো দলিল নেই। যেমন—

আশুরার দিন হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল—এ দাবির পক্ষে সহিহ বর্ণনা নেই।
এ দিন হজরত ইব্রাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন—এ তথ্যেরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।
আশুরার দিন গোসল করলে সারা বছর রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকা যায়—এটি লোকবিশ্বাস, ইসলামী নির্দেশনা নয়।
এ দিন চোখে সুরমা ব্যবহার করলে চোখের জ্যোতি বাড়ে বা রোগ হয় না—এ দাবিরও কোনো সহিহ ভিত্তি নেই।
আশুরা উপলক্ষে বিশেষ খাবার বা খিচুড়ি রান্না করে বিতরণ করাকে ধর্মীয় আমল মনে করা ঠিক নয়। পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা বৈধ হলেও এটিকে বিশেষ সওয়াবের কাজ মনে করার সুযোগ নেই।
আশুরা কোনো অশুভ বা অপয়া দিন নয়। ইসলামে কোনো দিনকে নিজস্বভাবে অশুভ মনে করার অবকাশ নেই।
১০ মহররম কিয়ামত সংঘটিত হবে—এ দাবিরও কোরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
কারবালা ও আশুরার সম্পর্ক

মহররমের ১০ তারিখেই মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন। এটি ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাবিধুর ঘটনা।

তবে আলেমদের মতে, কারবালার ঘটনার বহু আগে থেকেই আশুরা ছিল মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। তাই আশুরার মূল ইবাদত হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, রোজা রাখা এবং নেক আমল বৃদ্ধি করা। শোক প্রকাশের নামে ধর্মীয় সীমালঙ্ঘন বা ভিত্তিহীন আচার-অনুষ্ঠানের কোনো নির্দেশ ইসলামে নেই।

আশুরায় করণীয় আমল

সহিহ হাদিসের আলোকে আশুরায় যেসব আমল করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে—

  • মহররমের ৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ রোজা রাখা।
  • বেশি বেশি জিকির, তাসবিহ ও ইস্তিগফার করা।
  • সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা।
  • হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তির ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা দৃঢ় করা।
  • সত্য, ন্যায় ও ধৈর্যের শিক্ষা নিজের জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা।আশুরার মূল শিক্ষা

আশুরা কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন নয়; এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, সত্যের প্রতি অটল থাকা এবং আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। তাই ভিত্তিহীন লোকাচার বা প্রচলিত কুসংস্কারের পরিবর্তে কোরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়াই একজন মুসলমানের জন্য সর্বোত্তম পথ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।