ওমানে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার ভাইকে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়।
জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর স্কুল মাঠে। চার ভাইকে শেষ বিদায় জানাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়ে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
নিহত চার ভাই হলেন রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাঁরা Rangunia উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দেরাজাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে মরদেহগুলো ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ পৌঁছায়। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।
বুধবার ভোরে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। প্রিয়জনদের শেষবার দেখতে সকাল থেকেই বাড়িতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় জমে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ মে রাতে ওমানের আল মিলিদ্দা এলাকার আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহ এলাকায় একটি পার্কিং করা গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন চার ভাই। পরে সেখানেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে দুই ভাইয়ের ১৫ মে দেশে ফেরার কথা ছিল। তাঁদের একজনের বিয়ের কেনাকাটার জন্য চার ভাই একসঙ্গে বের হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
রাতে গাড়ির ভেতরে অবস্থানকালে তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়ার দৃশ্য উপস্থিত অনেককে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী জানান, শুরু থেকেই নিহতদের পরিবার এবং ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। তিনি ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য দাফন ও পরিবহন ব্যয় বাবদ ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

