চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ডিএসসিসি প্রশাসক, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান
তাহামিনা আক্তার
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ছোট কাটারার এসি মসজিদের পাশে অবস্থিত ‘মনজুর খান প্লাজা’র ষষ্ঠ তলায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুন পাশের আরেকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১০টি ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি ব্যাগ তৈরির কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভবনটির আশপাশে তৈরি পোশাকের দোকান ও কারখানা থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডিএসসিসি প্রশাসক। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুরান ঢাকার অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে উদ্যোগ
পুরান ঢাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাসায়নিক পদার্থের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখার ফলে রাসায়নিক-সংশ্লিষ্ট বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।
অগ্নিনির্বাপণের সময় পানির স্বল্পতা ও সরু রাস্তার সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, পুরান ঢাকার বর্তমান অবকাঠামোগত সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুরান ঢাকার বিদ্যমান পুকুরগুলো সংরক্ষণ ও সংস্কারের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, অগ্নিনিরাপত্তা কেবল আইন মেনে চলার বিষয় নয়; নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থেই প্রতিটি মার্কেট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আশপাশের ভবনগুলোতে যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।
এ ছাড়া রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, রাস্তাঘাট উন্মুক্ত থাকলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারত। তাই যত্রতত্র অবৈধ দোকান না বসিয়ে জরুরি সেবা কার্যক্রমের সুবিধার্থে রাস্তা ও ফুটপাত চলাচলের উপযোগী রাখতে হবে।
অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যবসায়ী, ভবনমালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।



