উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি আবারও দ্রুত বাড়ছে। ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকালে একই স্থানে পানির উচ্চতা ছিল বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, দেশের পাশাপাশি উজানে তিস্তা অববাহিকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদীর চরাঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৬ হাজার মানুষ ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা, ফসলি জমি ও কাঁচা সড়কে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানি আরও বাড়লে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চর রাজপুরের বাসিন্দা ওমর আলী বলেন, দুপুরের পর থেকে তাঁর বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানি বাড়তে থাকলে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে।
চর বাগেরহাট এলাকার বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, পানির চাপ বাড়ায় তাঁদের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
তিস্তা তীরবর্তী কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন অংশ স্থায়ীভাবে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীর ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া নদীতে না নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দেশের চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো সুরমা নদীর ছাতক, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশন।

