চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো অনেক এলাকা পানির নিচে রয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণের সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতকানিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বেড়ে লোকালয়ে প্রবেশ করায় উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
সাতকানিয়া পৌরসভার সামিয়ারপাড়াসহ আশপাশের কিছু এলাকায় পানি কমেছে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশও দৃশ্যমান হচ্ছে। অন্যদিকে কেঁওচিয়ার তেমুহনী এলাকার অনেক স্থানে এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি রয়েছে। পানিবন্দি অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু ভবন ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে গেছেন।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক নলকূপ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করছেন। এ পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা পর্যাপ্ত নয়। কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও অনেক পরিবার এখনো ত্রাণসামগ্রী না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বলছেন, বন্যার্ত মানুষের সংখ্যার তুলনায় সরকারি সহায়তা কম। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু এলাকায় রান্না করা ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ বন্যায় উপজেলা ও পৌরসভার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট, মিনারেল ওয়াটার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দের ১৭৫ টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বিতরণের কার্যক্রম চলছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাকবলিত সব মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

