কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারোসিন্দুর গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা সানজিদা—আজ এলাকার নারীদের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণা। পেশায় শিক্ষক হলেও পুঁতির কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন তার ছোট্ট উদ্যোগ “বৃষ্টি হস্তশিল্প”। নিজের সৃজনশীল হাতে তৈরি করেন নানা ধরনের পণ্য, আর ধীরে ধীরে গড়ে তুলছেন এক নতুন স্বপ্নের ভুবন।
সানজিদা জানান, উদ্যোক্তা হিসেবে তার পথচলায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে কাপাসিয়া নারী উদ্যোক্তা গ্রুপ।
তার ভাষায়,
“ওই গ্রুপের আপুদের নির্দেশনা, সহযোগিতা আর মানসিক সাহস পেয়েই বুঝেছি—একজন নারী চাইলে নিজের জীবন ও সমাজ দুটোই বদলে দিতে পারে।”
এই প্রেরণাই তাকে ভাবিয়েছে—নিজ এলাকার নারীদের জন্যও একটি প্ল্যাটফর্ম দরকার, যেখানে তারা নতুন কিছু শিখতে পারবে, নিজেদের উদ্যোগকে শক্ত করে তুলতে পারবে।
পাকুন্দিয়া নারী উদ্যোক্তা গ্রুপ—এক নতুন উদ্যোগের জন্ম
এ কারণেই তিনি নিজ উপজেলায় গড়ে তুলছেন “পাকুন্দিয়া নারী উদ্যোক্তা গ্রুপ”। লক্ষ্য একটাই—
স্থানীয় নারীদের জন্য একটি নিরাপদ, সহায়ক ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যাতে তারা ঘরে বসে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারে এবং আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।
সানজিদা বলেন,
“কাপাসিয়া গ্রুপ আমাকে দেখিয়েছে—একটি দল এক নারীর জীবন পাল্টে দিতে পারে। আমি চাই আমাদের পাকুন্দিয়ার মেয়েরাও সেই সুযোগ পাক।”
পুঁতির গয়না ও ক্রাফটের মাধ্যমে শুরু হলেও আজ তার পেজ বৃষ্টি হস্তশিল্প—একটি পরিচিত নাম। প্রতিটি পণ্য তিনি তৈরি করেন নিজের হাতে।
তিনি মনে করেন, ছোট উদ্যোগ হলেও নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য এটি যথেষ্ট শক্ত ভিত্তি গড়ে দিতে পারে।
নারীদের জন্য পত্রিকার ভূমিকার প্রশংসা
নিজের গল্প প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়ায় পত্রিকার প্রতিও কৃতজ্ঞ সানজিদা। তিনি বলেন,
“এমন উদ্যোগ নারীদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। আমার মতো নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বড় সম্মানের।”
ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছে তার। তিনি চান তাঁর উদ্যোগ অন্য নারীর পথপ্রদর্শক হোক।
তার বিশ্বাস—
“নারীরা এগোবে, যদি নারীরা নারীর পাশে দাঁড়ায়।”

