নাম: সাকিয়া হাসমী জ্যাকী
উদ্যোগের নাম: নানাবিধ কর্মস্থল : বাসাইল, নরসিংদী প্রোপার পণ্য: নকশি পিঠাসহ সব ধরনের পিঠাপুলি ও দেশীয় খাবার
শখ থেকে স্বাবলম্বিতার পথে
মাস্টার্স সম্পন্ন করার পরও যখন কাঙ্ক্ষিত চাকরি মিলছিল না, তখন জীবনের এক কঠিন সময় পার করতে হয়। হতাশা ও মানসিক চাপের মধ্যেই ২০১৯ সালে খালাতো বোন মনিয়া ফেরদৌসী চৈতির অনুপ্রেরণায় উদ্যোক্তা হিসেবে পথচলা শুরু। ধীরে ধীরে যখন দেখলাম আমার তৈরি পণ্য মানুষের ভালো লাগছে, চাহিদাও বাড়ছে এবং আমারও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, তখনই সিদ্ধান্ত নিই এটিকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলব।
সমাজের কটাক্ষ পেরিয়ে এগিয়ে চলা
মাস্টার্স পাশ করে পিঠা নিয়ে কাজ করায় শুরুতে সমাজের নানা কটাক্ষ ও নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে। তবে সেই বাধা আমাকে থামাতে পারেনি। বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আমাকে আরও শক্তভাবে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।
ঐতিহ্যের স্বাদ, সারা বছরের চাহিদা।
খাবার মানুষের মৌলিক চাহিদা। আর বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে পিঠাপুলির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তাই নকশি পিঠাসহ দেশীয় খাবারের চাহিদা সারা বছরই থাকে। আমার উদ্যোগে আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই স্বাদ, পরিচ্ছন্নতা এবং ঐতিহ্য— এই তিনটি বিষয়কে।
প্রথম অর্ডারের আনন্দ
আমার প্রথম অর্ডার ছিল ৫০০ টাকার নকশি পিঠা। ছোট সেই অর্ডারই আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল এবং বুঝিয়েছিল যে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।
নারী উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
অর্থনৈতিক নয়, আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং পরিবারের সহযোগিতায় প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে আজ আমি নিজের পরিচয় তৈরি করতে পেরেছি।
সামনের স্বপ্ন
আমার স্বপ্ন, ‘নানাবিধ’কে দেশজুড়ে একটি বিশ্বস্ত দেশীয় খাদ্য ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং আমাদের ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলিকে আরও বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দেওয়া।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বার্তা
“স্বপ্ন দেখুন, কাজ শুরু করুন। ছোট থেকে শুরু করলেও সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে সফলতা একদিন অবশ্যই ধরা দেবে।”
আমার কাছে সাফল্য
আমার কাছে সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নয়; একজন নারী হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করা, সমাজে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারাই প্রকৃত সাফল্য।

