নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আয়েশা বেগম এখন এক পরিচিত নাম স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে। ‘আয়েশা হস্তশিল্প গাজীপুর’ নামের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন হস্তশিল্পের কাজ।
একসময় শুধুই গৃহিণী ছিলেন আয়েশা। কিন্তু মনোবাসনা ছিল নিজের যোগ্যতায় কিছু করার, নিজের হাতে উপার্জনের। ২০২৩ সালের শেষের দিকে সেই স্বপ্ন থেকেই শুরু হয় তার উদ্যোক্তা যাত্রা। শুরুটা ছিল খুব ছোট—কয়েকটি বেবি নকশিকাঁথা তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করা। ভয় ছিল, মানুষ কিনবে তো? কিন্তু ধীরে ধীরে তার কাজ সাড়া পেতে শুরু করে।
“প্রথম দিকে স্টকে রাখিনি, অর্ডার পেলেই তৈরি করতাম,” জানালেন আয়েশা।
“এখন الحمد لله অর্ডারি কাজ লেগেই থাকে। কিছু ইনভেস্ট করে স্টক করেছি, ভালো সাড়াও পাচ্ছি।”
আয়েশার তৈরি পণ্যের মধ্যে আছে নকশিকাঁথা, নরমাল কাঁথা, বেবি কাঁথা, বেবি কম্বো সেট, হাতের কাজের জামা ও নকশি বেডশিট। সবকিছুতেই ফুটে ওঠে হাতে তৈরি ঐতিহ্যের ছোঁয়া।
বর্তমানে তিনি কাপাসিয়া উপজেলার নারী উদ্যোক্তা গ্রুপের একজন অ্যাডমিন।
তিনি জানান, “আমাদের সিনিয়র অ্যাডমিন শারমিন আপুর সহায়তায় আমরা অনেক নারী উদ্যোক্তা এগিয়ে যাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করছি।”
আয়েশা শুধু ব্যবসায়ী নন, তিনি একজন প্রশিক্ষিত হস্তশিল্পীও। কেকের কোর্স, এনএসডিএ (NSDA) থেকে প্রশিক্ষণ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ব্লক ও বাটিকের কোর্স সম্পন্ন করেছেন। সেলাই কাজেও তিনি দক্ষ।
“নতুন কিছু শেখার প্রতি আমার আগ্রহ সবসময়ই বেশি,” বললেন তিনি হাসিমুখে।
বর্তমানে আয়েশার সঙ্গে কাজ করছেন ৭-৮ জন নারী কর্মী, যারা ঘরে বসেই আয় করছেন। আয়েশার ভাষায়, “আমার মাধ্যমে তারা যেমন উপকৃত হচ্ছে, আমিও তাদের সহযোগিতায় স্বাবলম্বী হচ্ছি।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়েশা বলেন,
“আমি চাই আমার হস্তশিল্পের ছোঁয়া পৌঁছে যাক বাংলাদেশের ৬৪ জেলায়, এমনকি দেশের বাইরেও। আল্লাহ সহায় হলে ইনশাআল্লাহ আমার ব্যবসাকে আরো বড় করে তুলব।”
গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার এই গল্পটি প্রমাণ করে — ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো নারীই নিজের হাতে গড়ে নিতে পারেন নিজের স্বপ্নের পৃথিবী।

