বিজ্ঞাপন Walton Refrigerator Freezer Offer
পত্রিকার পাতা
ঢাকামঙ্গলবার , ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে: রামদেব

পত্রিকার পাতা ডেস্ক
আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভারতীয় যোগগুরু রামদেব গতকাল সোমবার বলেছেন, একদিন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হয়ে যাবে। এ জন্য মানুষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ভারতে কোনো ধর্মই হুমকির মুখে নেই; বরং হুমকির মুখে রয়েছে দেশের সম্মান ও মর্যাদা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন রামদেব। এ সময় তিনি ধর্মান্তর, সনাতন ধর্ম, শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্র নিয়েও কথা বলেন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের কথিত নিপীড়নের সমালোচনা করার পাশাপাশি ভারতের জন্য নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি। রামদেব বলেন, গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সংবিধান ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত।

পাকিস্তানে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রামদেব অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুরা ‘নির্যাতন ও অবিচারের’ শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুরা যে নির্যাতন ও অবিচারের শিকার হয়েছেন, তা মানবসভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতাগুলোর মধ্যে অন্যতম।’ এসব কর্মকাণ্ডের জন্য যারা দায়ী, তাঁদের এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এরপর রামদেব বলেন, ‘সেই দিনও আসবে, যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের সঙ্গে একীভূত হবে। শুধু একটু ধৈর্য ধরুন।’

ধর্মান্তর এবং তা নিয়ন্ত্রণে ছত্তিশগড়ে প্রণীত আইন প্রসঙ্গে রামদেব বলেন, হিন্দু, খ্রিস্টান বা মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগগুলো ‘রাজনৈতিক বক্তব্যের’ অংশ। তিনি বলেন, ‘দেশে যে ধর্মীয় পরিবর্তনগুলো ঘটেছে, সেগুলো যা-ই হোক না কেন, অন্তত ভবিষ্যতে যেন কেউ নিপীড়নের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। হিন্দুধর্ম, ইসলাম বা খ্রিস্টধর্ম কোনো ধর্মই হুমকির মুখে নেই। হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা।’

রামদেব বলেন, তিনি ভারতকে বিশ্বের সেরা গণতন্ত্র এবং ভারতীয় নাগরিকদের বিশ্বের সেরা নাগরিক হিসেবে দেখতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘আমি চাই ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের সেরা হোক, রুপির মূল্য অন্তত ডলার ও পাউন্ডের সমান হোক এবং ভারতীয় পাসপোর্ট এত শক্তিশালী হোক যে বিশ্বের কোথাও ভারতীয়দের ভিসার প্রয়োজন না হয়।’ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ প্রতিটি দেশেই যেন ভারত সমান সম্মান পায়, সেটিও চান তিনি।

সনাতন ধর্ম প্রসঙ্গে রামদেব বলেন, এমন কোনো ঘাটতি নেই, যার কারণে মানুষকে ইসলাম বা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘সনাতন সংস্কৃতি ও ধর্ম প্রাচীন। এর মধ্যে এমন কী ঘাটতি বা ত্রুটি রয়েছে, যা আমাদের মুসলমান বা খ্রিস্টান হতে বাধ্য করবে? মুষ্টিমেয় কিছু মুসলমান তলোয়ার, প্রলোভন, অলৌকিকতার দাবি এবং ভুল ধারণা প্রচারের মতো বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে আমাদের নিজেদের সনাতনী হিন্দু ভাইদের ইসলাম গ্রহণ করিয়েছিল। তখনও আমরা নীরব ছিলাম। খ্রিস্টানরা মানুষকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার সময়ও আমরা নীরব ছিলাম।’

সনাতন ধর্মের মধ্যে সামাজিক স্তরবিন্যাস, বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতা রয়েছে—এমন অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন রামদেব। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ থাকলেও সনাতন ধর্মের মধ্যে কোনো মৌলিক ত্রুটি নেই। তাঁর ভাষায়, ‘সনাতন ধর্মের মধ্যে কোনো অন্তর্নিহিত ত্রুটি নেই। এর পরিসরের মধ্যে কেবল কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ রয়েছে, যারা এমন বৈষম্য ও সামাজিক স্তরবিন্যাসের চর্চা করে।’

রামদেব আরও বলেন, সনাতনী হওয়ার অর্থ হলো ভগবান রামের মর্যাদা, ভগবান কৃষ্ণের যোগ ও কর্ম এবং ভগবান শিবের সঙ্গে যুক্ত পবিত্রতা ও সত্যনিষ্ঠাকে ধারণ করা। তিনি বলেন, ‘যদি এসব মূল্যবোধ অনুসরণ করা হয়, তাহলে ধর্মান্তরের প্রশ্নই আর থাকবে না।’

রামদেবের মতে, ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থাগুলো যাতে সঠিকভাবে এবং কোনো ষড়যন্ত্র বা অন্যায় ছাড়াই পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের বড় দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রযন্ত্রেরও বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে এমনভাবে ধর্মীয় ব্যবস্থার কার্যক্রমে সহায়তা করতে হবে, যাতে এর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করা না যায়।’ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, ধর্ম, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও কৃষি—কোনো ক্ষেত্রেই যেন অনিয়ম না থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রামদেব বলেন, ‘প্রধান লক্ষ্য হতে হবে এসব ব্যবস্থার আরও উন্নতি করা। কেবল তখনই আমরা ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘মানসিক নকশাল’ হিসেবে উল্লেখ করার মন্তব্য প্রসঙ্গেও কথা বলেন রামদেব। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দেশে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক নৈরাজ্য’ ছড়িয়ে দেওয়ার শামিল। তাঁর ভাষায়, ‘আমি রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে ঢুকতে চাই না, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক নৈরাজ্য গণতান্ত্রিক নয়।’

তবে মানুষকে প্রতিবাদ করার এবং নিজের মতামত প্রকাশ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও স্বীকার করেন রামদেব। তাঁর মতে, এই স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সীমার মধ্যে থাকা উচিত। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে প্রত্যেকের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে, কিন্তু দেশের ধ্বংসের জন্য কোনোভাবেই সেই স্বাধীনতাকে ব্যবহার করা উচিত নয়।’

নিজের বক্তব্যে রামদেব ধর্ম, শাসনব্যবস্থা ও জনসাধারণের আচরণের বিভিন্ন প্রশ্নকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি আবারও বলেন, ভারতে কোনো ধর্মই হুমকির মুখে নেই। তাঁর মতে, দেশের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নতি করা এবং গণতান্ত্রিক সীমারেখার মধ্যে থাকা ভারতের অগ্রাধিকারের বিষয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।