কেরানিগঞ্জের জিনজিরা থেকে ফ্রোজেন আইটেম, বিয়েবাড়ির ডালা, ভর্তা-ভাজা, কেকসহ নানা ধরনের হোমমেড খাবার তৈরি করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তরুণ নারী উদ্যোক্তা মিথিলা ইসলাম। তার প্রতিষ্ঠান Parisha Kitchen আজ স্থানীয়ভাবে একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত।
মিথিলার উদ্যোক্তা হওয়ার পথটা মোটেও সহজ ছিল না। পরিবার ও সমাজের আপত্তি, সময়ের অভাব, সমর্থনের অভাব—সবকিছুই ছিল তার বিপক্ষে। বিশেষ করে বাবা মেয়েদের কাজের বিষয়ে কড়া ছিলেন। সমাজের মানুষ কী বলবে—এই মানসিকতার সামনে দাঁড়াতে হয়েছে তাকে।
কিন্তু তবুও থেমে থাকেননি মিথিলা। একদিন বাবাকে না জানিয়ে, শুধু মায়ের রেসিপি আর তার আশীর্বাদকে পাশে রেখে তিনি শুরু করেন তার স্বপ্নযাত্রা।
মাত্র ৩৫০০ টাকা দিয়ে ২০২৩ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই ছোট উদ্যোগই আজ তাকে এনে দিয়েছে প্রতিদিন ৮–১০ হাজার টাকা আয়ের সাফল্য।
মিথিলা বলেন,
“পর্দা করেও সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায়—এর প্রমাণ আমি নিজে। কাজের পথে বাধা এসেছে, কথা শুনতে হয়েছে, কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। কারো কথায় কান দেইনি। শুধু পরিশ্রম করেছি।”
আজ তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারেন—
উদ্যোক্তা হলে স্বাবলম্বী হওয়া যায়।
স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়া মিথিলা ইসলামের এই জার্নি অসংখ্য নারীর জন্য একটি শক্ত অনুপ্রেরণা। তিনি দেখিয়েছেন, ইচ্ছাশক্তি ও চেষ্টা থাকলে পরদার আড়াল থেকেও নিজের আলোর দুনিয়া গড়ে তোলা সম্ভব।

