গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মেরুয়া গ্রামের রোকেয়া আক্তার—আজ এলাকার পরিচিত নারী উদ্যোক্তাদের একজন। অনলাইনে তাঁর পেজ “জেরিন বাহারি পণ্য” এখন বেশ জনপ্রিয়। মেয়েদের ড্রেস, বাচ্চাদের জামা, হ্যান্ডমেড চুড়ি ও জুয়েলারি—সব মিলিয়ে রোকেয়ার হাতের কাজ ইতিমধ্যেই পেয়েছে বিশেষ সাড়া।
রোকেয়া জানান, “ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল নিজের কিছু করব, নিজেই দাঁড়াবো। গৃহিণী হলেও মনে মনে সবসময় উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছে ছিল।”
অনলাইন ভিডিও দেখে বদলে যায় পথচলা
একদিন হঠাৎ মোবাইলে কাপাসিয়া উপজেলা নারী উদ্যোক্তা গ্রুপের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন রোকেয়া। এরপর গ্রুপের মডারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।
এরপর গ্রুপের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ব্লক-বাটিক কোর্স সম্পন্ন করেন। সেই কোর্সই তাঁর নতুন পথ খুলে দেয়।
ব্লক প্রিন্ট থেকে কেক—দুই হাতের দুই শিল্প
রোকেয়া এখন ব্লক প্রিন্ট ও হ্যান্ড প্রিন্টের শাড়ি, বাচ্চাদের জামা, থ্রি-পিসসহ নানা পণ্য তৈরি করছেন। তাঁর কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়ছে দিন দিন।
অন্যদিকে, মেয়ের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত কেক বানানোর ইচ্ছে থেকে তিনি ভর্তি হন কাপাসিয়া কেক বেকিং একাডেমিতে। কোর্স শেষ করে এখন নিয়মিত কেকও সেল করছেন।
রোকেয়ার কথায়,
“মেয়েকে ভালো কেক খাওয়ানোর ইচ্ছেতেই শুরু, পরে দেখি এটিও আমার কাজের বড় অংশ হয়ে গেল।”
নারী উদ্যোক্তা গ্রুপ—সাহসের আলো
কাপাসিয়া উপজেলা নারী উদ্যোক্তা গ্রুপের এডমিন ও মডারেটরদের প্রতি কৃতজ্ঞ রোকেয়া।
তিনি বলেন,
“তাদের সহযোগিতা না পেলে আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতাম না। তারা আমাকে সাহস দিয়েছে, আমাকে পথ দেখিয়েছে।”
স্বপ্ন আরও বড়
রোকেয়ার লক্ষ্য—নিজের কাজকে আরও বিস্তৃত করা, নিজের তৈরি পণ্য মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং আরও নারীদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করা।
তিনি বলেন,
“একজন গৃহিণী থেকেও যে উদ্যোক্তা হওয়া যায়—আমি তার প্রমাণ হতে চাই। সামনে আরও বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।”

