নিজস্ব প্রতিবেদক শ্রীপুর, গাজীপুর : মাওনা চৌরাস্তা অঞ্চলে হোমমেড কেক ও ডেজার্ট উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত এক নাম— শাম্মী আক্তার। ঘরে বসে রান্নার শখ থেকেই তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প আজ অনেকের অনুপ্রেরণা। ২০২১ সালে বেকিংয়ের ওপর একটি কোর্স করে পথচলা শুরু করেন তিনি। করোনা মহামারির দীর্ঘ অবসরে ইউটিউবের রান্নার ভিডিও, কেক মেকিং টিউটোরিয়ালই হয়ে ওঠে তার নিত্যসঙ্গী। প্রতিদিন নতুন নতুন রেসিপি চেষ্টা করতে করতে বেকিংয়ের প্রতি তার আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে।
পরে ঢাকায় দেড় মাসের একটি প্রফেশনাল কোর্স শেষ করে নিজ বাড়িতেই সরঞ্জাম কিনে প্র্যাকটিস শুরু করেন শাম্মী। নিজের জন্মদিনে তৈরি একটি কেক তার জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরিবারের সদস্যরা কেক খেয়ে প্রশংসায় ভাসান তাকে এবং উৎসাহ দেন কেক নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য। সেই উৎসাহেই তিনি বিভিন্ন ফুড গ্রুপে কাজ শেয়ার করা শুরু করেন। ডেজার্ট আইটেম হিসেবে প্রথম পণ্য ছিল জর্দা। একজন ডেলিভারিম্যানের সহায়তায় অর্ডার ডেলিভারি শুরু করেন। ধীরেই হোক, তবে নিশ্চিতভাবেই তৈরি হতে থাকে তার উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয়। মাঝেমধ্যে তিক্ত অভিজ্ঞতাও এসেছে, তবু হাল ছাড়েননি তিনি। বরং এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পেয়েছেন প্রতিটি বাধা থেকে।
মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় যখন কেক বা বেকিং শিখানোর মতো ট্রেইনার ছিল খুব কম, তখনই প্রথম ট্রেইনার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন শাম্মী আক্তার। বর্তমানে তার ট্রেনিং সেন্টারে বেকিং শিখেছেন ২০০–এর বেশি শিক্ষার্থী। তার উদ্যোগ— Shammi’s Kitchen— ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে সাড়া ফেলেছে। শিখতে ভালোবাসেন শাম্মী। বেকিং লেভেল–৩ সম্পন্ন করেছেন তিনি, এখন লেভেল–৪ চলমান। পাশাপাশি CBT&A Methodology Level 4-এর প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন।
শাম্মী আক্তার বলেন,
“মানুষ চেষ্টা করলে কি না পারে! শেখার শেষ নেই। আমি চাই আরও অনেক নারী উদ্যোক্তা তৈরি হোক আমার হাত ধরে। বাধা আসবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু থেমে গেলে চলবে না।”
নিজেকে সফলতার খুব কাছেই মনে করছেন তিনি। তার একটাই স্বপ্ন— আরো ভালো কিছু করা, আরও অনেককে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন তিনি।


