পত্রিকার পাতা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ধান ক্ষেতে সমন্বিত চাষে বদলে গেল কৃষকের ভাগ্য

বাসস
মে ২০, ২০২৬ ৭:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একসময় ধান চাষ করেও সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরছিল না। বছরের পর বছর ঋণের চাপ নিয়ে চলতে হতো রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুর রহিমকে। তবে ধানক্ষেতে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ করে এখন তিনি হয়ে উঠেছেন সফল উদ্যোক্তা। বর্তমানে বছরে প্রায় আট লাখ টাকা আয় করছেন এই কৃষক।

তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম প্রায় এক দশক ধরে ধান, হাঁস ও মাছের সমন্বয়ে একটি টেকসই কৃষি মডেল গড়ে তুলেছেন। তাঁর খামারে একই জমিতে ধান চাষের পাশাপাশি হাঁস পালন ও মাছ চাষ করা হয়।

কৃষক রহিম জানান, হাঁস ধানক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। আবার হাঁসের বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে মাছের চলাচলে জমির মাটি নরম থাকে এবং ধানের উৎপাদনও বাড়ে। ফলে একই জমি থেকে একাধিক সুবিধা পাওয়া যায়।

আব্দুর রহিমের বাবা মজিবর রহমানও কৃষিকাজ করতেন। তিন একর জমিতে ধান চাষ করেও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হতো। সেই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যেই আলিম পাসের পর কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন রহিম।

২০১৩ সালে তিনি পুরোপুরি কৃষিকাজে মনোযোগ দেন। পরের বছর গাইবান্ধার বামনডাঙ্গা থেকে ২০০টি হাঁসের বাচ্চা কিনে এনে ধানক্ষেতের পাশে পালন শুরু করেন। প্রথম দফায় হাঁস বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেন তিনি।

এই সাফল্যের পর আরও বড় পরিসরে সমন্বিত খামার গড়ে তোলেন রহিম। এক একর জমিতে ধান, হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ শুরু করে প্রথম বছরেই এক লাখ টাকার বেশি আয় করেন। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর খামারের পরিধি ও আয়।

বর্তমানে তাঁর খামার এলাকায় একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয় অনেক কৃষক তাঁর পরামর্শে একই ধরনের চাষ শুরু করেছেন।

রহিমাপুর গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধান চাষের খরচ এখন হাঁস ও মাছ থেকেই উঠে আসে। ধানের পাশাপাশি বাড়তি আয় হওয়ায় পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে।

আরেক কৃষক আবু তালেব জানান, শুরুতে কিছুটা লোকসান হলেও পরে আব্দুর রহিমের পরামর্শ নিয়ে সফলতা পেয়েছেন। এখন হাঁস ও মাছ থেকেই বেশি লাভ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, সমন্বিত চাষে কীটনাশকের ব্যবহার কমে যায়। এতে পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, আব্দুর রহিমের খামার এখন এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। এই মডেল আরও বিস্তৃত করা গেলে অনেক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।