পত্রিকার পাতা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

এলিন ইসলাম: উদ্যোক্তা’র জীবনের গল্প

পত্রিকার পাতা ডেস্ক
জুলাই ১৫, ২০২৬ ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজের সম্পর্কে বলুন। কি ধরনের পণ্য বা সেবা নিয়ে কাজ করছেন?
উত্তর : আমার নাম এলিন ইসলাম। কুমিল্লার মেয়ে, সিরাজগঞ্জের বউ। আমার উদ্যোগের নাম – Alin’s Creation। আমার কাজ মূলত ঘরে তৈরি স্বাস্থ্য সম্মত বিভিন্ন সিজনাল ফলের আচার আইটেম নিয়ে। এছাড়াও আমসত্ত্ব, কাসুন্দি, নারিকেলের নাড়ু, বরফি এগুলো করি। এছাড়াও আমার পেইজে সিরাজ গঞ্জের খাঁটি ঘি, নিজেদের জমির মাশকলাই ডাল, রমজানের আইটেম, হোম মেইড বেসন, পেঁয়াজু মিক্স এগুলোও পাওয়া যায়।
তবে আমার নিজের হাতে তৈরি আচার ও আমসত্ত্ব ই বেশি চলে।
২. উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেয়েছেন, কবে থেকে আপনার যাত্রা শুরু?
উত্তর : কোভিডের সময় যখন সবাই ঘরবন্দি, তখনই ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে নারীদের উদ্যোগ সম্পর্কে জেনেছি। ওই বিশাল প্লাটফর্মে বিভিন্ন নারীদের উদ্যোগ দেখেই নিজে কিছু করার ইচ্ছে টা জেগে ওঠে।
আমার শাশুড়ি মা খুব ভালো আচার বানাতেন। মূলত ওনার কাজে সাহায্য করতে গিয়েই আমি আচার বানানো শিখি। সবাই বেশ পছন্দ করতো। সেই উৎসাহ থেকেই আমার পেইজ Alin’s creation চালু করি।
৩.ব্যবসা শুরু করার পেছনের গল্প টা কি?
উত্তর : কোভিডে ঘরবন্দি সময়ে কিছু করার চিন্তা থেকেই শুরু, নিজে যে কাজটা ভালো পারি সেটাই করতে চেয়েছি। এই ব্যাপারে আমার পরিবারের সবাই আমাকে আচার নিয়েই কাজ শুরু করতে উৎসাহিত করে, আর তখনই পেইজ খুলে ফেসবুকে আচারের পোস্ট দেয়া শুরু করি।
৪. প্রথম বিনিয়োগ কত ছিলো ? কি পরিমান মূলধন নিয়ে শুরু করেছিলেন?
উত্তর : প্রথম বিনিয়োগ আমার বরের। কিছু কাঁচামাল আর আনুষঙ্গিক খরচ মিলে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়েছিল।
৫. আপনার পণ্যের বিশেষত্ব কি? নতুন কোন পণ্য বা সেবা নিয়ে কাজ করছেন কি?
উত্তর : আমার পণ্যের বিশেষত্ব হলো সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায়ে, হাইজিন রক্ষা করে যত্ন সহকারে নিজের হাতে প্রতিটা আইটেম তৈরি করি।
৬. শুরুতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন?
উত্তর : শুরুতে ডেলিভারি নিয়ে একটু সমস্যা ছিলো। আমার বর সরকারি চাকরিজীবী। অফিস করে যতটুকু সময় পেতো, ডেলিভারি করে দিত। পরে ডেলিভারি কোম্পানির সাহায্যে ডেলিভারি করতে সক্ষম হই।
৭. কার সাহায্য বেশি পেয়েছেন?
উত্তর : প্রথমত অবশ্যই পরিবার, আত্মীয় স্বজন, নিজের পরিচিত বান্ধবী ও ছেলে মেয়ের স্কুলের গার্ডিয়ান ভাবীরাও অর্ডার করতো। প্রথম জয়েন করা গ্রুপ থেকেও অর্ডার আসতো।
৮. কোন সংগঠনের সহায়তা পেয়েছেন? তাদের সম্পর্কে কিছু বলুন, যেন অন্য উদ্যোক্তারাও উপকৃত হয়।
উত্তর : ” খ তে খাঁটি পরিবার ” নামক ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়ে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ, আজ যতোটুকু পরিচিতি – এই গ্রুপের এডমিন, মডারেটর আপুরা সহ সকল মেম্বার দের অবদানের কথা অনস্বীকার্য। শুধু পণ্য ক্রয়- বিক্রয় নয়,এই গ্রুপ থেকে প্রতিনিয়ত শিখছি অনেক কিছু , আর বুঝতে পারছি – শেখার কোন বয়স নেই। নিজেকে মেলে ধরার একটা প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছে এখানে। অনেক উদ্যোক্তা নারীরা সাহস পেয়েছে এবং তাঁদের সুপ্ত প্রতিভা গুলো বিকশিত হচ্ছে।
৯. কঠিন সময়ে নিজেকে মোটিভেটেড রাখেন কীভাবে?
উত্তর : আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখি আর নিজের কাজে ফোকাস করি। বিশ্বাস করি, আল্লাহ সব কিছু ঠিক করে দিবেন।
১০. উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনটি? উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি কি?
উত্তর : উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। অনেকেই আমাকে ” আচারের রানী, ” আচার আপু “বলে সম্বোধন করে। এটা ই বা কম কিসে? নিজের ইনকাম সেটা যতো ক্ষুদ্র ই হোক – এটা অনেক সম্মানের, অনেক বড় শক্তি।
১১. এমন কোন ব্যর্থতা আছে, যা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছেন?
উত্তর : উদ্যোগের শুরুর দিকে আচার গুলো কাঁচের জারে ডেলিভারি করতাম। কারন, কাঁচের জারে আচার ভালো থাকে। প্রথম ঠিকই চলছিল, কিছুদিন পরে বড় একটা অর্ডারে ডেলিভারি ম্যানের অবহেলার কারনে কাঁচের জার ভেঙ্গে যায়, এরকম দুই বার হয়েছে। আমার কষ্ট ও বেশ কিছু টাকা লস হয়েছে। তো আমি আবার সেই দুটো অর্ডারের পণ্য পুনরায় প্লাস্টিকের জারে পাঠিয়ে ডেমারেজ দিয়েছি। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আমার জন্য।
১২. এমন কোন ঘটনা বলুন, যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
উত্তর : পরিবার, আত্মীয় স্বজন সবাই আমার হাতের আচার খুব পছন্দ করতেন। উনাদের প্রশংসা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
১৩. কাজ ও পরিবারের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখেন?
উত্তর : আচার জিনিসটা এরকম, এটা প্রতিদিন বানাতে হয় না, তাছাড়া পরিবারের সবাই সাপোর্ট করে, তাই ভারসাম্য হয়ে যায়।
১৪. চাকরি না ব্যাবসা কোনটা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাস্তব, আপনার কি মনে হয়?
উত্তর : সংসার সামলে চাকরি একটু টাফ যদিও, তবুও মাস শেষে একটা ফিক্সড অ্যামাউন্ট থাকে। তবে মেয়েদের জন্য ঘরে বসে ব্যবসায় ভালো আমার মতে, ইনকাম কম হলেও একটা আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।
১৫. ছোট বেলায় কি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন? কোন পেশায় যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো?
উত্তর : অ্যাডভোকেট হওয়ার ইচ্ছে ছিলো, তাই আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর প্র্যাকটিস করা হয়নি।
১৬. ব্যাবসার সবচেয়ে মজার অভিজ্ঞতা কি? এমন কোন গল্প আছে, যা এখনও মনে পড়ে?
উত্তর : ব্যাবসার প্রথম দিকে একজন লন্ডন প্রবাসী মহিলা বেশ বড় একটা পাইকারি অর্ডার করেছিলেন। উনার সুপার শপের জন্য অনেক গুলো আচার নিতে চেয়েছিলেন। পরে বুঝতে পারি উনি ফ্রড।
১৭.ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? আগামী ৫ বছরে আপনার ব্যবসাকে কোথায় দেখতে চান?
উত্তর : ভবিষ্যতে নিজের একটা সুপার শপ করার স্বপ্ন আছে, যেখানে আচার সহ আরো কিছু অর্গানিক পণ্য এড করবো, বর রিটায়ার্ড করলে দুজন মিলে ব্যাবসা করবো, এরকম ইচ্ছে আছে।
১৮.যারা এখন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য আপনার বার্তা / পরামর্শ কি?
উত্তর : যারা এখন উদ্যোক্তা হওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের বলবো- মোটামুটি একটু জেনে বুঝে, আইডিয়া নিয়ে শুরু করে দিন। সততা বজায় রেখে চেষ্টা করলে অবশ্যই সফলতা আসবে। তবে, সাহস করে এগিয়ে আসতে হবে। নিজের সামান্য ইনকাম কম হলেও আত্মতৃপ্তি অপরিসীম
সহযোগিতায় : @খ তে খাঁটি পরিবার।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।