১. নিজের সম্পর্কে একটু বলুন। আপনার উদ্যোগের নাম কী এবং কী ধরনের পণ্য/সেবা নিয়ে কাজ করছেন?
উত্তর : আমি সেতু বৈশ্য।
বিসিআইসি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এস,এস,সি এবং এইচএসসি পাশ করেছি। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি।
আমার উদ্যোগের নাম C for Colour.
আমি বিভিন্ন ফ্রোজেন আইটেম, রেডিমিক্স মসলা যেমন : বিরিয়ানি মসলা, রোস্টের মসলা, কাবাব মসলা, চাট মসলা এসব নিয়ে কাজ করছি। সাথে পাকোড়া মিক্স, ফিরনি মিক্সও বানিয়ে থাকি।
২. উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেয়েছেন?
ব্যবসা শুরু করার পেছনের গল্পটা কী?
উত্তর : উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা আমার সব কাছের মানুষই দিয়েছে। একটা সময় এসে আমার মনে হয়েছে আমার হাতে তো অনেকটা সময়। আমি কিছু একটা কাজ অনলাইনে করতে পারি। যেনো আমি ঘরেও থাকতে পারি আবার আমার সময়টাও ভালো কাটে। সেই চিন্তা থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার শুরু। এরপর আস্তেধীরে একজন প্রফেশনাল শেফের কাছে ছোট ছোট কিছু কোর্স করেছি।
আমার সন্তান যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করলো,তখন ওকে তো নিয়মিত ঘরে টিফিন বানিয়ে দিতাম। ওখান থেকেই মূলত ফ্রোজেন আইটেম যা বাচ্চাদের স্কুলের টিফিন দেয়ার জন্য মায়েদের বেশি প্রয়োজন হয়, ওটা নিয়েই কাজ করার চিন্তা করি।
৩. প্রথম বিনিয়োগ কত ছিল? কি পরিমান মুলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন?
উত্তর : প্রথম বিনিয়োগ ছিল ৫০০ টাকা।
৪. আপনার পণ্যের বিশেষত্ব কী? নতুন কোন পণ্য বা সেবা নিয়ে কাজ করছেন কি?
উত্তর : আমার পণ্যের বিশেষত্ব হচ্ছে, সব খাবার ঘরে বানানো। একদম আমি নিজের হাতে সব বানাই। এক্ষেত্রে আমার কোনো সাহায্যকারীও নাই।
৫. শুরুতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন?
উত্তর : শুরুতে এবং এখন পর্যন্ত আমার একমাত্র চ্যালেঞ্জের নাম পণ্য ডেলিভারি দেয়া। যেহেতু ফ্রোজেন খাবার খুব সেনসেটিভ জিনিস, বাইরে বেশি সময় থাকলে তা মেল্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই আমার বাসা থেকে ক্রেতার বাসায় যতটা স্বল্প সময়ে পারা যায় পৌঁছে দিতে হয়। তাই হুটহাট বা নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারি ম্যান পাওয়াটা কষ্টের বিষয় এখনও।
৬. কার সমর্থন বেশি পেয়েছেন?
উত্তর: পরিবার যদি পাশে না থাকে তাহলে তো কোনো কাজ মন দিয়ে করা যায় না। আমি অনেক লাকী যে আমার পরিবার, বন্ধু এবং সংঘটন সবার সহযোগিতা আমি পেয়েছি এবং এখনও পাচ্ছি।
৭. কোন সংঘঠনের সহায়তা পেয়েছেন? তাহলে তাদের সম্পর্কে একটু বলুন, যেনো অন্য উদ্যোক্তারাও উপকৃত হয়।
উত্তর : আমার ৪ বছরের উদ্যোক্তা জীবনে আমি একটা সংগঠনের সাথেই আছি। আর সেটা হচ্ছে ‘ খ তে খাঁটি পরিবার ‘। এর বাইরে আমি আর কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত নাই।
৮. কঠিন সময়ে নিজেকে মোটিভেটেড রাখেন কীভাবে?
উত্তর :যখন কঠিন সময় আসে, তখন সৃষ্টিকর্তার স্মরণ করি। নিজের ভালো কাজগুলো বারবার দেখি।
৯. উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনটি?একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি কী?
উত্তর : উদ্যোক্তা হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার পরিবার, বন্ধু এবং আমার সংগঠন খ তে খাঁটি পরিবার সবসময় আমার পাশে আছে। আমি জানি যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি আমি তাদের সহযোগিতায় পার হয়ে যেতে পারবো।
১০. এমন কোনো ব্যর্থতা আছে যা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছেন?
উত্তর : আমার উদ্যোক্তা জীবনে এমন কোনো ঘটনা এখনও ঘটেনি। তবে ছোটখাট যে সব ঘটনা হয় তা মনে হয় সবার ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।
১১. কাজ ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখেন?
উত্তর : এটা আসলে প্রতিটি মানুষের জীবনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আমি চেষ্টা করি রাত ১০ টার ভিতর ঘরের কাজ, বাচ্চাদের পড়াশোনা এইসব গুছিয়ে নিতে। এরপর আমি আমার উদ্যোগের কাজ করি। তবে যদি অর্ডারের চাপ বেশি থাকে, তাহলে পরিবারের বাকি সদস্যরা তা বুঝতে পারে।
১২. বর্তমান প্রেক্ষাপটে চাকরি না করে ব্যবসা, কোনটা বেশি বাস্তব? আপনার কি মনে হয়?
উত্তর : আমার মনে হয় যে যেই কাজ করে আনন্দ পায়, তার সেটাই করা উচিত। আমি রান্না করতে পছন্দ করি, আমার দুইজন সন্তান আছে। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে রান্না নিয়ে কোনো কাজই আমার জন্য উপযুক্ত। তাই আমি এই বিষয়টা বেছে নিয়েছি।
১৩. ছোট বেলায় কি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন? কোন পেশায় যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো?
উত্তর :প্রতিটি বাচ্চার মতো পরীক্ষার খাতায় আমিও লিখতাম বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। ওইদিকে অংকের নাম্বার ভয়ংকর রকমের খারাপ ছিলো। এরপর আমার একাউন্টিং নিয়ে পড়ার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু যখন একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলাম, তখন বিষয়টা প্রিয় না হলেও সুযোগটা ছাড়িনি।
১৪. আপনার ব্যবসার সবচেয়ে মজার অভিজ্ঞতা কী? এমন কোনো গ্রাহকের গল্প আছে যা আজও মনে পড়ে?
উত্তর : কোনো মা যখন বলে আমি আপনার কাছে সন্তানের জন্য খাবারটা নিশ্চিন্তে অর্ডার করি, তখন আমি আসলে খুবই শান্তি পাই। আমার বান্ধবীর মেয়ে আমার বানানো নাগেট, চিজ বল ছাড়া আর কিছু স্কুলের টিফিনে নিয়ে যায় না। আসলে কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই এমন ছোট ছোট নানা অভিজ্ঞতা হচ্ছে। সমৃদ্ধ হচ্ছি আমি।
১৫. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? আগামী ৫ বছরে আপনার ব্যবসাকে কোথায় দেখতে চান?
উত্তর : আমার নিজের একটা ক্যাফে দেয়ার ইচ্ছে। পুরো ক্যাফেতে থাকবে একদম হোম মেইড সব খাবার। দেখি আগামী ৫ বছরে কি করতে পারি। স্বপ্ন দেখতে তো মানা নাই।
১৬. যারা এখন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য আপনার বার্তা / পরামর্শ কী?
উত্তর :ধৈর্য ধারণ করে নিজের কাজ করে যাওয়া , সাফল্য এক দিনে আসবে না এটা মাথায় রাখতে হবে। এবং যে কাজটা করতে চাই সেটা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে বুঝে কাজ শুরু করতে হবে।
সহযোগিতায় : @খ তে খাঁটি পরিবার

