টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এর প্রভাবে কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ২০৬ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ উৎপাদন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ছিল ১০০ দশমিক ৬০ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। আগের দিন একই সময়ে পানির উচ্চতা ছিল ৯৯ দশমিক ১৫ ফুট। এক দিনের ব্যবধানে লেকের পানির স্তর ১০০ ফুট এমএসএল অতিক্রম করায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে মোট ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। চলতি বছরে এটিই সর্বোচ্চ উৎপাদন।
কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষ সূত্র জানায়, পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে ১, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ১৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৪০ মেগাওয়াট।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই লেকে পানির প্রবাহ বেড়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় পর পাঁচটি ইউনিট প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে পানি সংকটের কারণে কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রটির পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
প্রকৌশলীরা জানান, আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই লেকের পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনও আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
১৯৬০ সালে চালু হওয়া কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি কাপ্তাই লেকের পানির ওপর নির্ভরশীল। লেকে পর্যাপ্ত পানি থাকলে পাঁচটি ইউনিট মিলিয়ে ২৩0 থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

