স্টাফ রিপোর্টার
কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরার একটি ছোট ঘর। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ডানা মেলতে শুরু করেছে দুই বোনের স্বপ্ন। রাজিয়া সুলতানা প্রেমা ও তানজিমা আক্তারের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে হোম-বেইসড বেকারি—‘The Twisted Bakers’। পরিবারের দায়িত্ব, সন্তান সামলানো, সংসার—সব চাপের মাঝেও দু’জন মিলে গড়ে তুলেছেন নিজেদের ভালোবাসার এই প্ল্যাটফর্ম।প্রেমা জানালেন, শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ। “মাঝেমধ্যে নিজের পরিবারকে খুশি করতে কেক বানাতাম। আল্লাহর রহমতে সবাই খুব পছন্দ করত। তখনই ভাবলাম—কেন শুধু নিজের মানুষদের জন্য? আরেকটু বড় করে চেষ্টা করলে অন্যরাও তো আমার হাতে বানানো কেকের স্বাদ পেতে পারে।”
এই ভাবনা থেকেই শুরু। তবে পথটা ছিল মোটেই মসৃণ নয়। সংসারের নানা ব্যস্ততা, অল্প জায়গায় কাজ, আর অর্ডার সামলানোর চাপ—সব মিলিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল চ্যালেঞ্জের। তবুও থেমে থাকেননি। বোন তানজিমাকে সঙ্গে নিয়ে দু’জন মিলে নতুন যাত্রা শুরু করেন। তাদের কথায়, “বিশ্বাস ছিল—মন থেকে চেষ্টা করলে আল্লাহ নিশ্চয়ই পথ দেখাবেন।” এখন ‘The Twisted Bakers’ শুধু একটি কেক ব্যবসার নাম নয়; এটি দুই বোনের পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতীক। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী থেকে শুরু করে যে কোনো বিশেষ দিনে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ কেক বানাতে ব্যস্ত থাকেন তারা। তাদের ভাষায়, “প্রতিটি কেকের ভেতর শুধু ক্রিম থাকে না, থাকে দোয়া, ভালোবাসা আর হাসিমুখের আশাও।”
ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়েও আশাবাদী দুই বোন। কেরানীগঞ্জ ছাড়িয়ে একদিন আরও বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছাতে চায় তাদের উদ্যোগ। রাজিয়া সুলতানা প্রেমা বলেন, “আমাদের চেষ্টা যদি একজন মেয়েকেও নিজের স্বপ্ন শুরু করার সাহস দেয়—তাহলেই মনে করব সব পরিশ্রম সার্থক।” শেষে তারা কৃতজ্ঞতা জানালেন গ্রাহক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং পরিবারের প্রতি। “স্বপ্ন ছোট হতে পারে, কিন্তু হাল ছাড়লে সেটাই সবচেয়ে বড় ভুল। যতদিন মানুষ আমাদের ভালোবাসা দেবে, ততদিন কাজ করে যাব আমরা। ইনশাআল্লাহ একদিন ‘The Twisted Bakers’ বড় হয়ে উঠবেই।”
লেখকঃ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক

