মিষ্টি হাসি আর মিষ্টির প্রতি ভালোবাসা থেকেই শুরু তানজিমা আফরিন নাহিদের যাত্রা। একসময় শুধুই পরিবারের জন্য কেক বানাতেন, এখন তিনি নিজেই একজন উদ্যোক্তা। তাঁর উদ্যোগের নাম ‘বেক এ কেক উইথ নাহিদ’— যেখানে তৈরি হয় কাস্টমাইজড কেক, কুকিজ, ডেজার্ট ও নানা রকম মিষ্টান্ন।
কিশোরগঞ্জে জন্ম, বেড়ে ওঠা কেরানীগঞ্জে
তানজিমা আফরিন নাহিদ কিশোরগঞ্জ জেলার মেয়ে। তবে শৈশব, কৈশোর ও শিক্ষা জীবন কেটেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরায়।
পিতা সিদ্দিকুর রহমান ভূঞা এবং মাতা মাজেদা আক্তার— দুজনেই তাঁকে সবসময় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন।
বর্তমানে তাঁর স্বামী এম.কে.এম. নাজমুল হক রুবেল, যিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিন সন্তান—দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে গড়ে উঠেছে নাহিদের সুন্দর পরিবার।
বেকিংয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়া
নাহিদ বলেন,
“বেকিং আমার প্রচণ্ড প্রিয় কাজ। ভালোবাসা থেকেই এই পেশায় এসেছি।”
তিনি ২০২৩ সালে ইয়েস ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে তিন মাস মেয়াদি বেকিং ও পেস্ট্রি ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি NSDA Level 1 ও Level 3 সার্টিফিকেশন অর্জন করেছেন।
তাঁর উদ্যোগে এখন বেসিক কেক তৈরির শর্ট কোর্সও করানো হয়, যাতে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা ঘরে বসেই দক্ষতা অর্জন করে স্বনির্ভর হতে পারেন।
‘শিক্ষা না থাকলে উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন’
নাহিদ মনে করেন, কোনো কাজেই সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন।
“শুরুতে বেকিং বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়েছি। তাই আমি মনে করি, যে কাজেই নামব, তার বিষয়ে কিছুটা হলেও শেখা জরুরি।”
পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন বলেই তাঁর পথ চলা সহজ হয়েছে। তিনি বলেন,
“পরিবার থেকে সাহায্য না পেলে একজন নারী উদ্যোক্তার পথ অনেক কঠিন হয়ে যায়।”
স্বপ্ন—একটি নারী–বান্ধব ফুড ফ্যাক্টরি
বর্তমানে নাহিদের লক্ষ্য নিজের ব্র্যান্ডকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া। তিনি চান একদিন একটি ফুড ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে, যেখানে কর্মসংস্থান হবে অনেকের, বিশেষ করে নারীদের জন্য।
“আমি চাই আমার ফ্যাক্টরি নারী–বান্ধব হোক, যেখানে মেয়েরা নিরাপদে কাজ করতে পারবে ও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।”
তিনি বিশ্বাস করেন,
“একজন পুরুষের সহায়তা ও সম্মান দিয়েই একজন নারী উদ্যোক্তা তৈরি হতে পারে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা অচল।”
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা
নাহিদ কৃতজ্ঞতা জানান ‘পত্রিকার পাতা’ প্ল্যাটফর্ম এবং এর উদ্যোক্তা সহায়ক মুখ হাসিনা আনসার আপুর প্রতি।
“আপনাদের উদ্যোগ আমাদের পথচলাকে সহজ করে দিচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের স্বনির্ভর হতে উৎসাহ দিচ্ছেন— এজন্য ধন্যবাদ ও শুভকামনা।”
তানজিমা আফরিন নাহিদের সাফল্য প্রমাণ করে— ভালোবাসা, অধ্যবসায় ও পরিবারের সমর্থন থাকলে ছোট উদ্যোগও বড় স্বপ্নে রূপ নিতে পারে। “বেক এ কেক উইথ নাহিদ” এখন শুধু একটি পেজ নয়, বরং মিষ্টি স্বপ্ন পূরণের এক দৃষ্টান্ত।

