চার দশক ধরে যে বিদ্যালয় ছিল তাঁর দ্বিতীয় ঘর, সেই বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই আবেগ ও ভালোবাসায় বিদায় নিলেন সহকারী শিক্ষক বেলা রানী দেব। দীর্ঘ ৪০ বছরের শিক্ষকতা শেষে ফুলে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে প্রিয় শিক্ষিকাকে রাজকীয় বিদায় জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
১৯৮৭ সালে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বেলা রানী দেব। এরপর কেটে গেছে প্রায় চার দশক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীর হাতেখড়ির সাক্ষী হয়েছেন তিনি। পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন আত্মিক সম্পর্ক।
বিদায়ের দিনে আবেগ সামলাতে পারেননি শিক্ষার্থীরাও। কারও চোখে জল, কারও কণ্ঠে স্মৃতিচারণ। প্রিয় শিক্ষকের কাছ থেকে পাওয়া শাসন, স্নেহ ও জীবনের নানা শিক্ষা বিদায়ের এই মুহূর্তে যেন ফিরে আসে তাঁদের মনে।
বেলা রানীর সহকর্মীরা বলেন, তিনি তাঁদের কাছে ছিলেন নির্ভরতার এক নাম। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, মাঠ ও করিডোরে যেন মিশে আছে তাঁর পদচারণার স্মৃতি।
চার দশকের কর্মজীবনের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখেন বেলা রানী দেব। ফুলে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে শুরু হয় তাঁর বিদায়যাত্রা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে গাড়িটি এগিয়ে যায় তাঁর আপন নিবাসের পথে। বিদায়ের আগে প্রিয় বিদ্যালয়কে ঘিরে স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বলেন, একজন শিক্ষক অবসরে যান, কিন্তু তাঁর শেখানো পাঠ, ভালোবাসা ও স্মৃতি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে থেকে যায়। বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেলা রানী দেবের বিদায়ও তেমনই—এটি শেষ নয়, বরং চার দশকের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন এক যাত্রার শুরু। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়বেলায় যে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে, তা কখনো ভোলার নয়।
বিদায়বেলায় বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বেলা রানী দেব বলেন, ‘আমি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা কখনো ভুলব না। দীর্ঘ ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছি। চেষ্টা করেছি বাচ্চাদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার। আমার বিদায়বেলায় এমন আয়োজন হবে, এত ভালোবাসা পাব—তা কখনো চিন্তা করিনি।’

