পত্রিকার পাতা
ঢাকারবিবার , ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া: স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, গরমে অস্থির শিক্ষার্থীরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
জুলাই ৫, ২০২৬ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় কয়েক দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এতে তীব্র গরমের মধ্যে ফ্যান ছাড়াই পাঠদান চালাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। একই সঙ্গে দেখা দেয় খাবার পানি ও টয়লেট ব্যবহারে সংকট।
বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের লালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৩ জুন বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিদ্যালয়টিতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। বিল পরিশোধ না হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।
রোববার (৫ জুলাই) বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষের ফ্যান বন্ধ। গরমে অস্থির শিক্ষার্থীরা খাতা দিয়ে বাতাস করছে। বিদ্যালয়ে নলকূপ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে পানির বোতল নিয়ে আসে। অন্যদের জন্য বাইরে থেকে পানি এনে রাখা হচ্ছে। পানির সংকটে বিদ্যালয়ের ভবনের ভেতরের টয়লেটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদাত হোসেন সাগর বলে, বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান চায় তারা।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা মনি জানায়, ফ্যান বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘ সময় বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। পানির সংকটও ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনির বাবা বশিরুল আলম বলেন, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ ও পানির অভাবে অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যেতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ভাষ্য, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও এর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইয়েমা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে বাইরে থেকে পানি এনে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করতে হয়েছে। গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া পাঠদান চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৬ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য দ্রুত বিল পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্পভাবে খাবার পানি ও টয়লেট ব্যবহারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীন পঞ্চগড় জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মাজহারুল আলম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী মিঞা বলেন, দীর্ঘদিন কেন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।