আসসালামু আলাইকুম
আমি রুপনা করিম
ঢাকা, মোহাম্মদপুর থেকে।
২০২০ সাল— একটি নতুন পথচলার শুরু। শুধু একটি ব্যবসা নয়, নিজের পরিচয় গড়ে তোলার, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক সাহসী সিদ্ধান্ত।
আমি ঘরে তৈরি খাঁটি ঘি, বাটার, বালাচাও ও লাচ্ছা সেমাই নিয়ে কাজ শুরু করি। আমার বিশ্বাস, প্রতিটি নারীর নিজের একটি পরিচয় থাকা উচিত, আত্মনির্ভরশীল হওয়া উচিত। সেই বিশ্বাস থেকেই উদ্যোক্তা জীবনে পা রাখা।
শুরুর পথটা মোটেও সহজ ছিল না। নানা প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পরিবারের সমর্থন না পাওয়া। আমার হাজব্যান্ডও প্রথমদিকে চাইতেন না আমি এই কাজ করি। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। ধৈর্য, পরিশ্রম আর নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি।
আজ সময় বদলেছে, এখন তিনিই আমার সবচেয়ে বড় সহযোগী ও অনুপ্রেরণা। প্রতিটি ছোট-বড় কাজে পাশে থাকেন, সাহস দেন, এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। এই পরিবর্তনই আমাকে আরও বেশি শক্তি দেয়।
একজন নারীর জন্য ঘর-সংসারের সব দায়িত্ব সামলে উদ্যোক্তা জীবন পরিচালনা করা সহজ নয়। প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। তবুও প্রতিটি সফল ডেলিভারি, প্রতিটি সন্তুষ্ট গ্রাহকের হাসি আর ভালোবাসা সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
আজও আমি শিখছি, লড়ছি, এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি— স্বপ্ন যদি সত্যিই নিজের হয়, তাহলে পথ যত কঠিনই হোক, একদিন না একদিন সেই স্বপ্নের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়।
আমার এই পথচলা শুধু আমার একার নয়; এটি সেই সব নারীর জন্য, যারা নিজের স্বপ্নকে ভয় না পেয়ে সাহস করে প্রথম পদক্ষেপ নিতে চান। আমি বিশ্বাস করি, একজন নারীর আত্মবিশ্বাসই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই শক্তি দিয়েই অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
আমার স্বপ্ন শুধু নিজের ব্যবসাকে বড় করা নয়, বরং দেশীয় ও ঘরে তৈরি নিরাপদ খাদ্যকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আমি চাই Foodique fashion-কে একটি বিশ্বস্ত ও পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, যেখানে প্রতিটি পণ্য হবে মানসম্মত, স্বাস্থ্যকর এবং ভালোবাসা দিয়ে তৈরি।
আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পরিচিতি তুলে ধরতে চাই। কর্পোরেট গিফটিং, আধুনিক প্যাকেজিং এবং নতুন নতুন পণ্য যুক্ত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো— আরও অনেক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে অনুপ্রাণিত করা। আমি বিশ্বাস করি, একজন নারী যখন নিজের পায়ে দাঁড়ান, তখন শুধু তার জীবনই নয়, তার পরিবার এবং সমাজও এগিয়ে যায়।
আমার পথচলা এখনও অনেক বাকি। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা, সততা ও মানের সঙ্গে কাজ করা এবং গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখাই আমার সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার। আমি বিশ্বাস করি, আজকের ছোট্ট এই উদ্যোগ একদিন ইনশাআল্লাহ একটি সফল ও অনুপ্রেরণাদায়ক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

