১) নিজের সম্পর্কে একটু বলুন। আপনার ব্যবসার নাম কী এবং কী ধরনের পণ্য/সেবা নিয়ে কাজ করছেন?
উত্তর : আমি দিনার বড়ুয়া তৃপ্তি, আমি হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। একটি স্কুলে আছি শিক্ষক হিসেবে। পড়াশোনা, বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। বর্তমানে ঢাকায় দুই ছেলে, হাজবেন্ড আর শ্বশুড় শ্বাশুড়ি নিয়ে বসবাস। আমার ব্যবসার নাম আরাদিত্য, চীন থেকে ইমপোর্ট করা হোম ডেকোর প্রোডাক্ট নিয়ে আমার কাজ। আমরা যারা শৌখিন বা ঘর সাজাতে ভালোবাসি তাদেরকে সুলভ মূল্যে বিভিন্ন ডেকোর আইটেম যা আমাদের নিত্য দিনের কাজেও প্রয়োজন হয় এমন পণ্য নিয়ে আমার কাজ।
২) উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেয়েছেন?
উত্তর : সর্বপ্রথম উদ্যোক্তা হবো এটা মনে হয়েছিল কোভিডের সময় , তখন হোম কোয়ারান্টাইন ছিলাম। সারাদিন বাসায় থাকতাম তখন মনে হতো বাসায় থেকেই কি কিছু করা যায়, এরপরে অনলাইন বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সাহস অনুপ্রেরণা দুটোই পাই।
৩) উদ্যোক্তা হবেন জেনে সর্বপ্রথম কাকে পাশে পেয়েছিলেন?
উপর : অবশ্যই মা’কে, পরে হাজবেন্ডও সাপোর্ট করেছিলেন।
৪) কবে থেকে আপনার উদ্যোক্তা যাত্রা শুরু?
ব্যবসা শুরুর গল্প, ব্যবসা শুরু করার পেছনের গল্পটা কী?
উত্তর: কোভিডে মূলত কাজ শুরু করি হোমমেড ফুড নিয়ে, তখন খাবারের হাইজিন নিয়ে সবাই সচেতন ছিল বেশি, তখন হোমমেড স্ন্যাকস নিয়ে প্রথম শুরু করি। আমি যেহেতু স্কুল টিচার তখন আমার স্কুলের অভিভাবকদের মাঝেই অর্ডার পাই, এভাবে শুরু। আমার উদ্যোগের নাম ছিল তখন তৃপ্তির রান্নাঘর। এই কাজটা আমার ৫ বছর ধরে চলেছে, এবং এখানে আরো অনেক খাবার যেমন, নারকেলের নাড়ু, সন্দেশ, ড্রাই চিপস, ডালের বড়ি, সিজনাল আম, গুড় যুক্ত হয়।
৫) শুরুতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন?
উত্তর: সবার প্রথম চ্যালেন্জ ছিল ডেলিভারি কিভাবে দিব? কারণ, তখন ঘরের বাইরে বেরনো মুশকিল ছিল । এরপর পণ্যের দামের চেয়ে ডেলিভারিতে চার্জ হতো বেশি।
৬) প্রথম বিনিয়োগ কত ছিল?
উত্তর: আড়াই হাজার
৭) নতুন পণ্য বা সেবা নিয়ে কাজ করছেন কি?
উত্তর: বর্তমানে চায়না প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছি, ইচ্ছে আছে তৃপ্তির রান্নাঘর আবার চালু করার।
৮) উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনটি?
উত্তর: যোগাযোগ ও আত্মবিশ্বাস এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। কারণ, আমি খুব চুপচাপ স্বভাবের। কোন সঠিক কথাই বলার সাহস পেতাম না। এই উদ্যোক্তা হবার পরে অনেকের সাথে যোগাযোগ এবং নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হবার পরে নিজের কনফিডেন্স বেড়েছে। সাহস বেড়েছে।
৯) অনলাইন বিজনেসের প্ল্যাটফরম হিসেবে কোন মাধ্যম টি সবচেয়ে সহজ বলে আপনি মনে করেন? প্রচারনার জন্য?
উত্তর: অবশ্যই ফেসবুক একটি সহজ মাধ্যম, এখানে একসাথে অনেক মানুষের কাছে পৌছানো যায়। যেমন, আমি খ তে খাঁটি পরিবার একটি সামাজিক ও লাইফস্টাইল বেসিস অনলাইন গ্রুপের সাথে বিগত ৫ বছর জুড়ে যুক্ত আছি। এবং বর্তমানে মডারেটর হিসেবে কাজ করছি। এখানে নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রচুর সম্ভাবনা আছে। আমি পরিচিতি পেয়েছি, ক্রেতাও পেয়েছি।
১০) এমন কোনো ব্যর্থতা আছে যা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছেন?
উত্তর: ব্যর্থতা ছাড়া তো সফলতা আসেনা। কাজের পারফেকসন না আসাটা, আত্মসন্তুষ্টি না আসা পর্যন্ত আমি ব্যর্থ বলেই মনে করি, যা কিনা আমাকে আরো বেশি ফোকাস হতে সাহায্য করেছে।
১১) এমন কোনো ঘটনা বলুন যা আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।
উত্তর: আমার মোস্ট সেলিং আইটেম সিগনেচার ডিশ ছিল নাড়ু, এটা আমার স্টুডেন্ট থেকে অনুপ্রাণীত হই। অভিভাবক রাই যেহেতু কাস্টমার ছিল একদিন একজন বললেন আমার ছেলে টার ওজন কম, খেতে চায় না। ডক্টর বলেছে মিষ্টি খাবার দিতে। ও তো আপনাকে পছন্দ করে অনেক। আপনি ওর জন্য নাড়ুটা বানাবেন মিস? এটাই শুরু ছিল নাড়ু বানানোর। এবং পারফেক্ট ভাবে হয় ও নি, তারপরে অনেকবার সেই আপুটা নাড়ু নিয়েছেন। ওনার অর্ডারেই নাড়ুর হাত পোক্ত করেছি। আবার, এখন যেমন চায়না ইমপোর্টস নিয়ে কাজ, একজন আপু ম্যাট অর্ডার করেন যেটা স্টক আউট ছিল, ওনার রিকোয়েস্টেই আবার নতুন করে স্টক করি, এবং ওনি এখন শুধু একটি নয় আরো অনেক জিনিসের ক্রেতা হচ্ছেন। সম্পূর্ণ নতুন হিসেবে এগুলো আমাকে অনুপ্রাণীত করে।
১২) একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি কী?
উত্তর: আমার পরিবার, আমার বড়ো ছেলে আমাকে অনেক বেশি সাহস যোগায়।
১৩) কাজ ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখেন?
উত্তর: পরিবারের সবাই আমাকে সাহায্য করেন। মোটামুটি ব্যালেন্স হয়ে যায়।
১৪) কঠিন সময়ে নিজেকে মোটিভেটেড রাখেন কীভাবে?
উত্তর: সবসময় ভেবেছি বাচ্চাদের কথা, ওরা যেন আমার পরিচয় টা সগৌরবে দিতে পারে, এজন্য আমাকে খাটতে হবে, লড়তে হবে।
১৫) আগামী ৫ বছরে আপনার ব্যবসাকে কোথায় দেখতে চান?
উত্তর: অনেক কিছু পরিকল্পনা আছে, বাকিটা ওপরওয়ালা ভরসা।
১৬) বর্তমান প্রেক্ষাপটে চাকরি না ব্যবসা কোনটা বেশি বাস্তব? আপনার কি মনে হয়?
উত্তর: দুটোর দুরকম প্রতিক্রিয়া। আমি যেহেতু চাকরিও করেছি বলতে পারি, চাকরিতে প্রতি মাসে একটা ফিক্সড এমাউন্ট পেলেও দিন শেষে কাজের জবাবদিহিতা করতে বাধ্য থাকব, ব্যবসা আমার মতে স্বাধীন ।এখানে লাভ, লস দুটোই নিজের, সন্তুষ্টি ও নিজের।
১৭) এক কথায় আপনার উদ্যোক্তা জীবনকে কীভাবে বর্ণনা করবেন?
উত্তর: এখনো শিখছি, শিখতে হবে আরো।
১৮) যারা এখন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য আপনার বার্তা কী?
উত্তর : তাদের উদ্দেশ্যে বলব, প্রপার প্লানিং ও বেসিক নলেজ নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত। সামান্য জানা বিষয় নিয়ে হলেও শুরু করা দরকার। একবার চলতে শুরু করলে, বাকি পথ চলারও সাহস পাবেন। এবং অবশ্যই সময় দিতে হবে। হতাশ হওয়া যাবে না।
দিনার বড়ুয়া তৃপ্তি
স্বত্বাধিকারী
Araditya- আরাদিত্য


