নিজস্ব প্রতিবেদক নরসিংদী : মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ঘরে বসে নিজ হাতে তৈরি অর্গানিক মেহেদি, চুড়ি ও বানজারা ব্যাগ বিক্রি করে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন নরসিংদীর তরুণী আনিকা। তার সৃজনশীলতা, ধৈর্য ও পরিশ্রম স্থানীয়ভাবে যেমন সাড়া ফেলেছে, তেমনি অনলাইনেও ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন তিনি।
শুরুর পথে বাধা, তবু থেমে যাননি আনিকা
আনিকাকে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে পরিবারেই। পড়াশোনার পাশাপাশি হাতের কাজ করাকে বহু সময়েই গুরুত্বহীন বলে মনে করতেন অনেকে। কেউ বলতেন— “এতে ভবিষ্যৎ হয় না।”
কিন্তু নিজের ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাসকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন আনিকা। হাতখরচের টাকাই ছিল তার প্রথম পুঁজি। সেখান থেকেই তৈরি করেন প্রথম অর্গানিক মেহেদি। প্রথমদিকে অর্ডার ছিল কম; অনেক দিন বিক্রিও হয়নি। তবু ধৈর্য হারাননি। ধীরে ধীরে কয়েকটি অর্ডার আসে, আর সেগুলোই তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
অর্গানিক মেহেদি—আনিকার ব্র্যান্ডের মূল পরিচয়
আনিকাই নিজ হাতে তৈরি করেন তার অর্গানিক মেহেদি। এতে কোনো রাসায়নিক বা কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয় না। তাই এটি ত্বকের জন্য নিরাপদ, আর রংও ধরে গাঢ়। বিয়ে ও নানা অনুষ্ঠান উপলক্ষে এই মেহেদি দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
হাতে বানানো চুড়ি—রঙ ও নকশায় বৈচিত্র্য
চুড়ি তৈরিতে নিজস্ব ডিজাইন ব্যবহার করেন আনিকা। রঙিন সুতা, মুক্তা, পুঁতি আর সৃজনশীল নকশার সমন্বয়ে তৈরি এসব চুড়ি কিশোরী থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সবার মন কাড়ছে।
বানজারা ব্যাগ—ফ্যাশনপ্রিয়দের জন্য নতুন রঙ
তার বানানো বানজারা ব্যাগগুলো রঙিন কাপড়, মিরর ও পুঁতির কারুকাজে আলাদা সৌন্দর্য পায়। বাজারে থাকা ব্যাগের ভিড়েও এসব ব্যাগ আলাদা করে নজর কাড়ে। অনলাইন ক্রেতাদের মাঝেও বাড়ছে এর চাহিদা।
পড়াশোনা ও ব্যবসা—দুটোই এক হাতেই
পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন অর্ডার গ্রহণ, কাস্টমারদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্য তৈরি—সবকিছুই নিজ হাতে সামলান আনিকা। সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ইতিমধ্যেই তাকে আরও গোছানো উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।
সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন
ভবিষ্যতে নিজের ব্র্যান্ডকে বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়াই আনিকার লক্ষ্য। দেশ–বিদেশে তার তৈরি পণ্য পৌঁছে দিতে চান তিনি। পাশাপাশি মেয়েদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

