ফুটবল বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। ১০ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬–৪ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ইংলিশদের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন বুকায়ো সাকা।
হারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে গিয়ে তিনি লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠেছেন।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে এমবাপ্পে
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১০ গোল করেছেন এমবাপ্পে। ফলে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে তিনিই এগিয়ে। অন্যদিকে ৮ গোল নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
এমবাপ্পে এই আসরে মেসির তুলনায় ৫৭ মিনিট বেশি খেলেছেন। তাকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুট জিততে হলে ফাইনালে মেসিকে অন্তত হ্যাটট্রিক করতে হবে, অথবা দুটি গোলের সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট যোগ করতে হবে।
৫৬ বছর পর অনন্য কীর্তি
বিশ্বকাপের এক আসরে ১০ বা তার বেশি গোল করা ইতিহাসের চতুর্থ ফুটবলার এখন এমবাপ্পে। সর্বশেষ ১৯৭০ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলার ১০ গোল করেছিলেন।
এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ১০ গোলের পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। অর্থাৎ মোট ১৪ গোলে সরাসরি অবদান রেখে গত ৬০ বছরের মধ্যে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব, শেষ ৩২, শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনালে গোল করেছেন এমবাপ্পে। তবে ক্যারিয়ারের তিনটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলেও এখনো গোলের দেখা পাননি তিনি।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলের নতুন ইতিহাস
ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই ম্যাচে মোট ১০ গোল হয়েছে, যা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এর আগে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও পশ্চিম জার্মানির ম্যাচে মোট ৯ গোল হয়েছিল। ৬৮ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির গড়ল ইংল্যান্ড-ফ্রান্স।
এ ছাড়া ১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এটিই সর্বোচ্চ গোলের ঘটনা। ওই আসরে হাঙ্গেরি এল সালভাদরকে ১০–১ গোলে হারিয়েছিল।
ইংল্যান্ডের নতুন ইতিহাস
বিশ্বকাপে এবারই প্রথম তৃতীয় স্থান অর্জন করল ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে শিরোপা জয়ের পর এটিই বিশ্বকাপে ইংলিশদের সেরা সাফল্য।
এর আগে ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তৃতীয় হওয়ার সুযোগ পেলেও যথাক্রমে ইতালি ও বেলজিয়ামের কাছে ২–১ গোলে হেরে ব্যর্থ হয়েছিল তারা।
বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৭ গোল করেছেন জুড বেলিংহাম। এর আগে ১৯৮৬ সালে ৬ গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন গ্যারি লিনেকার। উল্লেখযোগ্য বিষয়, দুজনের কেউই পেনাল্টি থেকে গোল করেননি।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন বুকায়ো সাকা। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন জিওফ হার্স্ট, গ্যারি লিনেকার ও হ্যারি কেন।
ওলিসের অ্যাসিস্ট রেকর্ড, ফ্রান্সের হতাশা
চলতি বিশ্বকাপে ৭টি অ্যাসিস্ট করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে। গত ৬০ বছরের পরিসংখ্যানে বিশ্বকাপের এক আসরে এটিই সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট। এর আগে ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের ছিল ৬টি অ্যাসিস্ট।
ওলিসের পাস থেকেই এবারের বিশ্বকাপে পাঁচটি গোল করেছেন এমবাপ্পে, যা একই আসরে একজন খেলোয়াড়কে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট দেওয়ার নতুন রেকর্ড।
অন্যদিকে ২০১০ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে হারল ফ্রান্স। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও পরাজয়ের স্বাদ পেল তারা।
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যম বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে ২৬টি ম্যাচ পরিচালনা করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
গোলে ভরপুর বিশ্বকাপ
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১০৩ ম্যাচে হয়েছে ৩০৭ গোল। ম্যাচপ্রতি গোলের গড় দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯৮, যা ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ।
এদিকে ৫৮ বছর পর প্রথমবারের মতো প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করেছে ফ্রান্স। সর্বশেষ ১৯৬৮ সালে ইউরো বাছাইপর্বে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে চার গোল হজম করেছিল ফরাসিরা।
আর ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে একসঙ্গে গোল ও অ্যাসিস্ট করার প্রথম ফুটবলার হয়েছেন ডেক্লান রাইস।

